BJP, Facebook, Kajal Sheikh, ‘দুর্নীতিগ্রস্থ’ কাজল শেখকে আড়াল করার অভিযোগ, নিজের ফেসবুক ওয়ালে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হলেন বিজেপি নেতা

আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৮ জুলাই: এবার বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হাঁসন বিধানসভার বিধায়ক তৃণমূলের ফায়েজুল হক ওরফে কাজল শেখের বিরুদ্ধে সরব হলেন নানুরের বিজেপি নেতা। সরাসরি নাম না করে কাজল শেখের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে সরব হয়ে নিজের ফেসবুক পেজে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সহসভাপতি বিনয় ঘোষ। পাশাপাশি দলের একাংশের বিরুদ্ধে আর্থিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কাজল শেখকে আড়াল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি, হাঁসনের বিধায়ক ফায়েজুল হক ওরফে কাজল শেখের বাড়ি নানুর থানার পাপুরি গ্রামে। বরাবর বিজেপি বিরোধী মুখ বলে পরিচিত কাজল শেখ তৃণমূলে যোগ দিয়ে বিজেপির সংস্পর্শে যাওয়ার চেষ্টাকে ভালোভাবে নেয়নি বিজেপির একাংশ। কারণ কাজল নানুর এলাকায় বিজেপিকে ভোট করতে দেয়নি। ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে বোমা, বন্দুকের নলের সামনে বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছে কাজল। সেই কাজলের সঙ্গে বিজেপির সখ্যতা মেনে নিতে পারছেন না জেলার বিজেপি নেতারা। তাই নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি পোস্টে বিনয় ঘোষ লিখেছেন, বৈধ বালির ঘাটের বখরা, হুকিং করে বিদ্যুৎ চুরির জরিমানা, সরকারি কাজের জন্য ঠিকাদারদের কাছে থেকে আদায় করা কমিশনের টাকা পাপুড়িতে পৌঁছে দিতে হতো। একই পোস্টে তিনি লিখেছেন, নানুরের রবিনহুড কাজল শেখের বাড়ি পাপুড়িতে। পরোক্ষে তাঁর ইঙ্গিত, কেউ কেউ ত্রাতার দায়িত্ব নেওয়ার শর্তে টাকার বান্ডিল নিচ্ছেন। তাতে লাভ হবে না। তাঁকেও বাতা (বাঁশের লাঠি) দিয়ে ঠাণ্ডা করা হবে’। ওই পোস্ট বিজেপি’র জেলা নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। ইতিমধ্যেই কাজলকে ঘিরে দলের মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পর অন্যান্য তৃণমূল নেতৃত্বের পাশাপাশি কাজলের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। পরে তিনি মমতা শিবির ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়ায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বরাদ্দ করা হয়।

নানুরেরই খালা গ্রামের দুই বিজেপি কর্মী বলেন, ‘কাজলের দাপটে আমাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো থাকতে হয়েছে। আমাদের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। দলের হয়ে ভোট করতে গিয়ে কাজলের লোকদের হাতে মার খেতে হয়েছে। সেই কাজলের আজও নিরাপত্তা নিয়ে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়ানোটা কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারছি না’।

বিনয়বাবু বলেন, ‘কাজল বিভিন্ন দুষ্কর্মের সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর পুলিশ অনেক জায়গায় স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে। অথচ কাজলের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। তাই মনে হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি দলের কেউ কেউ টাকা নিয়ে তাঁকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।’

বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, ‘কাজল শেখ বহু দুষ্কর্মের সঙ্গে জড়িত একথা সত্য। তাঁকে আড়াল করার প্রশ্নই ওঠে না। পুলিশের কাছে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানাবো।

কাজলকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সহসভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ওই পোস্ট সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। তাই কোনো মন্তব্য করব না’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *