আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৮ জুলাই: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামার পা ছুঁয়ে প্রণাম করলেন বিজেপির বিধায়ক ধ্রুব সাহা। মামার শারীরিক অবস্থারও খোঁজ নিলেন বিধায়ক। প্রয়োজনে সমস্ত রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। এমনই সৌজন্যের ছবি ধরা পড়ল বীরভূমের রামপুরহাট থানার কুসুম্বা গ্রামে।

শনিবার কুসুম্বা গ্রামের উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষ রোপণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। স্কুলের সামনেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামার বাড়ি। সেখানেই থাকেন মামা অনিল মুখোপাধ্যায়, মামাতো ভাই নীহার মুখোপাধ্যায়, তাঁর স্ত্রী পম্পা মুখোপাধ্যায়। বাড়ির সামনে ছাত্র- ছাত্রীদের জাঁকজমক অনুষ্ঠান দেখে বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রাখতে পারেননি অনিলবাবু। ফলে সারাক্ষণ বাড়ির বাইরের দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। এদিকে অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মামাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জোড় হাত করে এগিয়ে যান রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। এরপরেই পায়ে হাত ছুঁয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

আলাপচারিতায় ধ্রুব সাহা নিজের পরিচয় দিয়ে অনিলবাবুর শরীরের খোঁজ নেন। সমস্ত রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন ধ্রুব সাহা। অনিলবাবুও ধ্রুব সাহার মাথায় হাত রেখে মানুষের স্বার্থে কাজ করার পরামর্শ দেন। ধ্রুব সাহা বলেন, “আমরা জানি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মামার বাড়ি কুসুম্বা গ্রামে। স্কুলের সামনেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্মৃতি বিজড়িত সেই বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি, কিন্তু উনার সঙ্গে দেখা হয় না। এদিন অনুষ্ঠান শেষে বাড়ির ফেরার সময় দেখলাম মামাবাবু দরজায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাই প্রবীণ ওই মানুষটার আশীর্বাদ নিতে এগিয়ে গেলাম। উনার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছি। উনার কোনও সমস্যা হলে আমি পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছি। এটাই আমাদের সৌজন্য”।

অনিল মুখোপাধ্যায় বলেন, “ধ্রুব সাহাকে আগে চিনতাম না। তবে নাম শুনেছিলাম। উনি এসে আমাকে প্রণাম করলেন খুব ভালো লাগলো। বললাম ভালোভাবে মানুষের হয়ে কাজ করো। ভালোভাবে রাজ্য চালাও।”
ভাগ্নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় নিয়ে মামা অনিল মুখোপাধ্যায় বলেন, “মানুষ ভোট দেয়নি তাই হেরেছে। দলের নেতাদের ভুলে দল হেরেছে। মানুষ চাইলে আবার মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন মমতা।”

