পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ৭ জুলাই: “সওয়াল বানকার ফির আঙ্গুয়া, জবাব তেয়ার রাখনা, জেল মে বিতে হুয়ে এদিন, বেকার নেহি জায়েগা, এক এক দিনকা হিসাব রাখনা,” জেল থেকে বেরিয়েই হুঁশিয়ারি দিলেন কুড়মি সমাজের নেতা রাজেশ মাহাতো। রাত পোহালেই পঞ্চায়েত নির্বাচন তার আগেই শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝাড়গ্রাম বিশেষ সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পেলেন কুড়মি আন্দোলনের দুই নেতা রাজেশ মাহাতো ও শিবাজী মাহাতো।
গত বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন তাঁরা। এর আগে ঝাড়গ্রাম জেলার ছয়টি মামলায় জেলবন্দি কুড়মি নেতা রাজেশ মাহাতো ও শিবাজী মাহাতো জামিন পেয়েও জেল থেকে বের হতে পারেননি। কারণ খড়্গপুর লোকাল থানার অন্তর্গত খেমাশুলিতে জাতীয় সড়ক অবরোধের পুরনো মামলা থাকায় তাঁদের জেলে থাকতে হয়েছিল। এদিন মেদিনীপুর আদালত থেকে দুই নেতার জামিনের কাগজপত্র আসে ঝাড়গ্রাম জেলে। তারপর সেই নথি খতিয়ে দেখে জেল কর্তৃপক্ষ তাঁদের ছাড়েন। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেল থেকে বেরিয়ে কুড়মি নেতা রাজেশ মাহাতো বলেন, “আমরা আইনের উপর বিশ্বাস ও ভরসা রেখেছিলাম এবং ন্যায় বিচার আমরা পেয়েছি। আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ভাবে চলবে। নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে আমি সমস্ত প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানাই। জঙ্গলমহলের শান্তি বজায় রাখার দায়িত্ব সবার। সকলে শান্তি, মৈত্রী, শৌভ্রাতৃত্ব বজায় রাখবেন”। তারপরেই হিন্দিতে রাজেশ বলেন, “সওয়াল বানকার ফির আঙ্গুয়া, জবাব তেয়ার রাখনা, জেল মে বিতে হুয়ে এদিন, বেকার নেহি জায়েগা, এক এক দিনকা হিসাব রাখনা।”
প্রসঙ্গত, মে মাসের ২৬ তারিখ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবজোয়ার কর্মসূচিতে ঝাড়গ্রাম থানার অন্তর্গত গড়শালবনি এলাকায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ের উপর হামলা এবং রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার গাড়ি ভাঙ্গচুরের ঘটনায় রাজেশ মাহাতো, শিবাজী মাহাতো অনুপ মাহাতো সহ ১১ জন কুড়মি নেতা ও আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করা হয়। কুড়মি নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক পুরনো মামলা যুক্ত করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। অনু মাহাতো আগে জামিনে মুক্ত হয়। তারপরে আরো সাতজন কুড়মি নেতা ও আন্দোলনকারী জামিনে মুক্ত হয়। এদিন ঝাড়গ্রামের বিশেষ সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পেলেন রাজেশ মাহাতো ও শিবাজী মাহাতো।

