জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ৮ ফেব্রুয়ারি: স্ত্রী প্রার্থী হতে না পারায় দলের এক নেতার বিরুদ্ধে মধ্যরাতে বিজেপির রাজ্য নেতার বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ভাঙ্গচুর করা হয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতার পারিবারিক গাড়িতে। অবিশ্রান্ত ছোড়া ইটে আতঙ্কিত নেতা ফোন করেন পুলিশে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে খড়্গপুর পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্দা সবজি বাজার সংলগ্ন এলাকায়। ওখানেই বাড়ি বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তুষার মুখার্জির। খড়্গপুর শহর ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত তুষারের বাড়িতে হামলার ঘটনায় রীতিমত হতচকিত শহর বিজেপি। হামলার সময় খড়্গপুর শহরের বিধায়ক অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামীদের দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন তুষারবাবু।
তুষারবাবুর বাড়ির উলটো দিকে বিজেপি নেতা সৌমেন দাস ওরফে বিলুর বাড়ি। সৌমেন কিছুদিন আগে ওই এলাকায় দলের শক্তি প্রমুখ ছিলেন। সৌমেন আশা করেছিলেন এবার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন তাঁর স্ত্রী। মঙ্গলবার রাতে বিজেপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় দেখা যায় অন্য নাম। তুষার মুখার্জি জানান, রাত ১২টা নাগাদ সৌমেন দাসকে দেখা যায় তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে আমার বাড়ির সামনে ঘোরা ফেরা করছিল। রাত ২টো নাগাদ বাড়ির সামনে ধুপ ধাপ আওয়াজ শুনতে পাই। আওয়াজ না থামায় জানলা খুলে দেখি সৌমেন দাঁড়িয়ে আছে আর কয়েকজন মহিলা মিলে আমার বাড়িতে ইট ছুঁড়ছে। তারা বলছে, বিলুর বউকে টিকিট দিলি না, তোকে দেখে নেব!”

তুষার মুখার্জি জানান, ‘ওরা চলে যাওয়ার পর বাড়ির বাইরে বেরিয়ে দেখি আমাদের পারিবারিক গাড়িটির ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে। আমি পুলিশকে ফোন করি। পুলিশের পাশাপাশি আমাদের ছেলেরাও আসে। আমি ছেলেদের শান্ত থাকতে বলি।’ তিনি আরও বলেন, সৌমেন দাস একবার আমাকেও বলেছিল যে তাঁর স্ত্রী এবার টিকিট পাচ্ছেই। সাথে এমনটা হুমকিও দিয়েছিল যে ‘যদি আমার স্ত্রী টিকিট না পায় তাহলে তোকে দেখে নেব।’
বিজেপির রাজ্য নেতা বলেন, ‘ওই মহিলাদের কয়েকজনকে আমি চিনি। তাঁরা দল থেকে বহিষ্কৃত কিন্তু এরমধ্যে কয়েকজন হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে যান। আমি তাঁদের হিরণের অফিসে বেশ কয়েকবার দেখেছি।’ ঘটনার পরই সাংসদ দিলীপ ঘোষের সঙ্গে কথা বলেন তুষার মুখার্জি। দিলীপ ঘোষ তাঁকে জানিয়ে দেন, এটা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তুষার মুখার্জি যেন পুলিশে অভিযোগ করেন। পুলিশও জানিয়েছে, যখনই অভিযোগ দায়ের হবে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।’ সব মিলিয়ে খড়্গপুরে ফের মাথা চাড়া দিল বিজেপির কোন্দল।”

