সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভের স্বীকৃতি পাচ্ছে কর্ণগড়

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১ ফেব্রুয়ারি: রাজ্যের সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভের স্বীকৃতি পেতে চলেছে পরাধীন ভারতের প্রথম রাজনৈতিক বন্দি রানী শিরোমণির স্মৃতিবিজড়িত কর্ণগড়। চলতি মাসেই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। এর আগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার যে দশটি স্থাপত্য এই স্বীকৃতি পেয়েছে তার মধ্যে কর্ণগড়ের ঐতিহ্যবাহী মহামায়া মন্দির ও  দন্ডেশ্বর মন্দির রয়েছে বলে জেলা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর জানিয়েছে। কর্ণগড়ের মহামায়া মন্দিরে সাধনা করার সময় কবি রামেশ্বর ভট্টাচার্য ১৭১১ খ্রিস্টাব্দে শিবায়ন কাব্য রচনা করেছিলেন বলে কথিত রয়েছে। তবে সেখানে স্টেট প্রোটেক্টেড মনুমেন্টের কোনও ফলক না থাকায় স্বীকৃতির বিষয়টি অনেকেরই অজানা রয়ে গেছে।

জেলা তথ্য সংস্কৃতি আধিকারিক বরুন মন্ডল বলেন, খুব শীঘ্রই মন্দির দুটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। তিনি জানান, মহামায়া ও দন্ডেশ্বর মন্দিরের মতো রানী শিরোমণির জরাজীর্ণ দুর্গ বা গড়ও সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভের স্বীকৃতি পেতে চলেছে।

কর্ণগড়ের রানী শিরোমণি রাঢ় বাংলার সাঁওতাল, ভূমিজ, লোধা প্রভৃতি আদিম জনজাতির মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে লড়াই করেছিলেন। এই চুয়াড় বিদ্রোহে (১৭৬৯-১৭৯৯) তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল। জগন্নাথ সিং ও দুর্জন সিংদের পর আদিম জনজাতির কৃষকদের থেকে জোর করে খাজনা আদায়ের বিরুদ্ধে তিনি গর্জে ওঠায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাকে চুয়াড় বিদ্রোহের মূল নেত্রী আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

১৭৯৯ সালের ৬ এপ্রিল ইংরেজ পুলিশের দল কর্ণগড় পৌঁছালে সেখান থেকে সুড়ঙ্গ পথে মেদিনীপুর শহরের আবাসগড় প্রাসাদে তিনি পালিয়ে যাওয়ার সময় ধরা পড়ে যান। রানী শিরোমণিকে বন্দি করে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি কর্ণগড় না ফিরে মেদিনীপুরের আবাসগড় প্রাসাদে থেকে যান। ১৮১২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয় বলে ঐতিহাসিকদের মত। পারাং নদীবেষ্টিত সেই কর্ণগড়কে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে একটি ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *