Kajol Sekh, Nanoor, নানুরে কাজলকে চোর স্লোগান, ডিম থেরাপি

আমাদের ভারত, বীরভূম, ২৭ জুলাই: শহিদদের স্মৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গিয়ে ডিম থেরাপির মুখে পড়লেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি, হাঁসন কেন্দ্রের বিধায়ক ফায়েজুল হক ওরফে কাজল শেখ। ওঠে “চোর চোর” স্লোগান। নিজের এলাকায় এভাবে অপদস্থ হওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েন কাজল। তিনি পরিস্কার জানান, বাংলার মানুষ এটাকে ভালোভাবে নেবে না।

প্রসঙ্গত, ২০০০ সালের ২৭ জুলাই সকালে বীরভূমের নানুর থানার সুচপুর গ্রামে ১১ জন ক্ষেতমজুরকে কুপিয়ে, পিটিয়ে খুন করা হয়। তৃণমূলের দাবি, নিহতরা তাদের কর্মী সমর্থক। অভিযোগের তির সিপিএমের বিরুদ্ধে। সেই সময় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এন ডি এ সরকারের রেলমন্ত্রী ছিলেন। খবর পেয়ে পরের দিন এলাকায় পৌঁছোন মমতা। নিহতদের স্মরণে পরের বছর থেকে নানুরের বাসাপাড়ায় শহিদ সভা পালন করা হয়। ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত প্রতি বছর সভা আলো করে মঞ্চে থাকতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেই সভার দায়িত্ব নিয়েছিলেন দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। কিছুদিন পর অনুব্রত মণ্ডলও সভায় যাওয়া বন্ধ করে দেন কাজলের সঙ্গে দ্বন্দ্বে। অনাড়ম্বর হলেও স্মরণ সভা হত প্রতিবছর। কিন্তু সরকার পরিবর্তন হতেই সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ল। এবার শুধুমাত্র শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেই এলাকা ছাড়েন কাজল শেখ। কাজলকে দেখে কিছু মানুষ চোর চোর স্লোগান দেন। ডিমও ছোড়েন। তবে সভাধিপতি শহিদ বেদির ভিতরে থাকায় ডিম তার কাছ পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি। গাড়িতে ওঠার আগে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁ
কে ছাতা দিয়ে আড়াল করে গাড়িতে তোলেন।

কাজল শেখ বলেন, “কিছু সমাজবিরোধী এই নোংরামিটা করেছেন। আমি তাদের চিনতে পেরেছি। তারা কোনদিন কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ছিল বলে আমার মনে হয় না। কিছু মানুষ ওদের টাকা দিয়ে পাঠিয়ে এসব করাচ্ছে। আমি পুলিশের অনুমতি নিয়ে এখানে এসেছি। পুলিশ যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। দুষ্কৃতীদের দেখা মাত্র এলাকা ছাড়া করেছে। আমার সঙ্গে নানুরের বিধায়ক বিধান মাঝি রয়েছেন। তবে ডিম আমার লাগেনি। আমার গাড়িতে ওরা ডিম মেরেছে। পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে।”

বিজেপির নানুর বিধানসভার পরাজিত প্রার্থী খোকন দাস বলেন, “উনাকে ডিম ছুড়বে না তো মিষ্টি ছুঁড়বে? উনি নানুরে বোমা ছুড়ে এলাকাকে সন্ত্রস্ত করে তুলেছিলেন। মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেননি। উনি একজন বালি মাফিয়া। এলাকার মানুষের জমি কেড়ে নিয়েছেন। তোলাবাজি করেছেন। উনার কর্মের ফল উনি পেয়েছেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *