Sukanta, BJP, সিঙ্গুরে শিল্প ফিরবেই, জোরের সঙ্গে দাবি করলেন সুকান্ত মজুমদার

আমাদের ভারত, ২৬ জুলাই: সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীই ফিরছে, তা নিয়ে এখনো পর্যন্ত তেমন কিছু নিশ্চিত করে জানা না গেলেও সিঙ্গুরে যে শিল্প ফিরবেই তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার।

রবিবার তিনি সিঙ্গুরে বিজেপির মন কি বাত কর্মসূচিতে যোগ দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সিঙ্গুরকে ঘিরে শিল্পের উন্নয়নের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে তার দলের, বা তার দলের সরকারের।

সুকান্ত মজুমদার বলেন, সিঙ্গুরে অবশ্যই শিল্প ফিরবে, টাটাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যা যা প্রয়োজন তা আমরা করব। এ বিষয়ে আমাদের রাজ্য সভাপতি আগেই বলেছেন, শিল্পমন্ত্রীও বলেছেন। সিঙ্গুর নিয়ে আমরা আলাদা করে ভাবছি। এখানে ইতিমধ্যেই জুয়েলারি শিল্প রয়েছে। আরো শিল্প আনার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। একটু সময় দিন।

বাম আমলে টাটা মোটরসের ছোট গাড়ির কারখানাকে কেন্দ্র করে সিঙ্গুর আন্দোলন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বড় মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সেই আবহে আবার সিঙ্গুরে শিল্প ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করলেন বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি।

অন্যদিকে, কলকাতায় সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘর্ষ ও অশান্তির ঘটনা নিয়েও সরব হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর দাবি, আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হয়েছে। তিনি বলেন, এরা কেউ ছাত্র নয়, বরং সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছে। বাম, অতিবাম যারা আছেন তাদের কাঁধে ভর করে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা হয়েছে। পুলিশের দিকে বোতল, জুতো ছোড়া হয়েছে। সাংবাদিকদের হেনস্থা করা হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল পুলিশকে লাঠি চার্জে বাধ্য করা, সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি।

এরপরে আরো কড়া মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ আই প্রযুক্তির সাহায্যে প্রত্যেকের পরিচয় খুঁজে বের করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, গুন্ডা দমন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব অভিযুক্তদের সম্পত্তি প্রয়োগ করে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতির টাকা আদায় করা হোক।

কলকাতায় অশান্তির পথে কারা আছে সেই প্রশ্নের উত্তরে সুকান্ত মজুমদার বলেন, তিনি নিশ্চিত নন, তাদের কে পাঠিয়েছে? তবে তাঁর দাবি, এই মেটিয়াবুরুজ, পার্ক সার্কাস কোম্পানি তৃণমূল, সিপিএম বোঝে না। এরা কখনো তৃণমূল, কখনো সিপিএম, কখনো আইএসএফ, কখনো কংগ্রেসকে ব্যবহার করে। উদ্দেশ্য একটাই গোলমাল পাকানো সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, হিন্দুদের ভয় দেখানো, মহিলা সাংবাদিকদের হেনস্থা করা। এরপরে তিনি আরো বলেন, এই শক্তির কোমর ভেঙে না দিলে বাংলার মাটি থেকে এই বিষ দূর হবে না, গুন্ডা দমন আইনে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। প্রয়োজনে বিধায়কদের ভূমিকারও তদন্ত করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *