জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৫ আগস্ট: জলের তোড় ভেঙ্গে পড়েছে অস্থায়ী বাঁধ। নতুন করে মেরামতের কাজ বিশ বাঁও জলে। আর তার জেরে সেচের জল সঙ্কটে প্রায় হাজার একর জমি। আর তাতেই মাথায় হাত পড়েছে গলসি-১ নং ব্লকের খাঁ পাড়া, কোঁদাইপুরের চাষিদের। বৃষ্টির জলের দিকে মুখিয়ে চাষিরা এখন প্রহর গুনছে। নতুন করে পাকা বাঁধ তৈরীর দাবি জানিয়েছে চাষিরা।
কাফরেন বাঁধ। গলসী-১ নং ব্লকের খাঁ পাড়া কোঁদাইপুর মৌজায় এই বাঁধের সেচের জলে নির্ভরশীল প্রায় ১ হাজার একর চাষের জমি। বছরে দু’বার ধান চাষ হয় ওই দুই মৌজার জমিতে। মানকর পিভিসি সেচ ক্যানেল থেকে শাখা বেরিয়ে সোজা চলে গিয়েছে খাঁ পাড়া, কোঁদাইপুর এলাকায়। সেখানেই রয়েছে কাফরেন বাঁধ। প্রায় প্রতিবছরই শাল বল্লি ও বালি-মাটির বস্তা দিয়ে বাঁধানো হয় বাঁধটি। চাষিদের অভিযোগ, ‘অস্থায়ী বাঁধানো হয়। তাতে একবার ভারি বৃষ্টি হলেই ওই বাঁধ ভেঙ্গে চলে যায়। ফলে চাষের সময় জল সঙ্কটে পড়তে হয়।” গত ২০ দিন আগে ভারি বৃষ্টিতে একইরকমভাবে ভেঙ্গে গিয়েছে কাফরেন বাঁধ। তার জেরে চরম সঙ্কটে প্রায় এক হাজার একর জমির ধান।
নব কোনার, হিরন্ময় মন্ডল, শরৎ সাহা প্রমুখ চাষিরা জানান, “ধার দেনা করে চাষ করেছি। ৮-৯ হাজার টাকা বিঘাতে খরচ হয়েছে। শুরুতেই জল সঙ্কটে জমি ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছিল। কোনওরকম সার দেওয়া যায়নি। ধান নষ্ট হয়ে পড়েছিল। মঙ্গলবার বৃষ্টি হওয়ায় কোনও ভাবে ধানের গোড়া ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বাঁধ ভাঙ্গার ফলে সেচের জল অপচয় হচ্ছে। ভাঙ্গা বাঁধ ছাড়িয়ে খড়ি, নদীতে পড়ছে জল। চাষের কোনও কাজেই লাগছে না। বহুবার বাঁধ মেরামতের দাবি জানিয়েছি। কাজ হয়নি। তাই কাফরেন বাঁধ পাকা বাঁধানোর দাবি জানাচ্ছি।”
জানা গেছে, দীর্ঘদিনের পুরোনো বাঁধ। প্রতিবছর কেন অস্থায়ীভাবে ওই বাঁধ বাঁধানো হয়। রাজ্য ও কেন্দ্র উভয় সরকার যখন কৃষির ওপর জোর দিয়েছে। জল সংরক্ষণে তৎপর। তখন কেন ওই বাঁধা পাকা বাঁধানো হয়নি?
গলসী-১ নং পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি অনুপ চট্টোপাধ্যায় জানান, “এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবুও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। চাষিদের আবেদন আসলে ওই বাঁধ মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।”
রনডিহা সেচ দফতরের আধিকারিক অর্ণব রায় জানান,” জলের কোনও সমস্যা হয়নি। খুব শীঘ্রই বাঁধটি মেরামত করা হবে।”
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সদস্য পরেশ পাল জানান,
“বিষয়টি শুনেছি। ওই বাঁধটি কংক্রিটের বাঁধানোর চিন্তাভাবনা নেওয়া হচ্ছে।”

