পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে, পান্ডবেশ্বরে জিতেন্দ্র তেওয়ারিকে ঢুকতে বাধা পুলিশের, উত্তেজনা

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১২ এপ্রিল: বৈধ অনুমতিপত্র থাকা সত্বেও জিতেন্দ্র তেওয়ারিকে পান্ডবেশ্বর বিধানসভা এলাকায় ঢুকতে বাধা। জঙ্গলের মাঝে প্রায় ৩ ঘন্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠল কমিশনারেট পুলিশের বিরুদ্ধে। মাফিয়া দিয়ে ভোট লুট করতেই পুলিশের বাধা দেওয়া বলে অভিযোগ জিতেন্দ্র তেওয়ারির। পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘ বচসা। সোমবার আসানসোল উপনির্বাচনের দিন ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল পান্ডবেশ্বর বিধানসভার ঝাঁঝরা এলাকায়। ভোটার না হওয়ায় বাধা বলে সাফাই পুলিশের।

প্রসঙ্গত, সোমবার ছিল আসানসোল লোকসভার উপনির্বাচন। সকাল থেকে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে সরগরম খনি অঞ্চলের রাজনৈতিক ময়দান। শুরুতেই অভিযোগ ওঠে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে বুথের ভেতর  পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে। বেলা গড়াতেই বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। একের পর এক অনিয়মের খবর চাউর হতেই রোষে পড়ে সংবাদ মাধ্যম। বারাবনি এলাকায় সংবাদ মাধ্যমকে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারিকে পান্ডবেশ্বর বিধানসভা এলাকায় ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এদিন তিনি নির্বাচন কমিশনের বৈধ অনুমতি পত্র নিয়ে দলীয় প্রার্থীর নির্দেশে পান্ডবেশ্বরে খোঁজ খবর নিতে যান। এই সময় ঝাঁঝরা গ্রামে ঢোকার আগে তিলাবনির জঙ্গলে পুলিশ আটকে দেয় জিতেন্দ্র তেওয়ারির গাড়ি। বাধা পেয়ে গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের কাছে আটকে দেওয়ার কারণ জানতে চায় জিতেন্দ্র তেওয়ারি। আর তখনই পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। কর্তব্যরত এসিপি (অন্ডাল) তাহেদ আনোওয়ার জানান,
“এলাকার ভোটার না হওয়ায় আটকে দেওয়া হয়েছে।”

যদিও জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নেওয়া আছে। তার অনুমতি পত্র রয়েছে। তারপরও পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে আটকে দিয়েছে। পুলিশ পক্ষপাতিত্ব করছে। সম্পূর্ণ শাসক দলের হয়ে কাজ করছে।” তিনি আরও বলেন,” গত কয়েকদিন ধরে পান্ডবেশ্বর এলাকায় দলিয় কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। সন্ত্রাস করছে।” পুলিশের বাধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শাসক দলের লোহা চোর, কয়লা চোর, বালি চোরদের দিয়ে ভোট লুট করার সুযোগ করে দিতে আমাকে আটকে রেখেছিল পুলিশ। প্রদীপ নেভার আগে জ্বলে ওঠে। সেই অবস্থা হয়েছে তৃণমূলের।”

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি সুজিত মুখোপাধ্যায়। জিতেন্দ্র তেওয়ারির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। সুজিতবাবু বলেন, “গণতন্ত্রে সব রাজনৈতিক দলকে সম্মান করি। পুলিশকে আইন মেনে কাজ করার জন্য অনুরোধ করেছি।” 

শেষমেশ পুলিশের নির্দেশে জিতেন্দ্র তেওয়ারি পাণ্ডবেশ্বরের দিকে এগিয়ে যায়। তার পরেই ঘটনাস্থলে আসেন বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “পুলিশ তৃণমূলের দলদাস হয়ে কাজ করছে। তবে মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। আসানসোল লোকসভা আসনে আমি জিতব।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *