Taslima, Uniform civil code, “মাদ্রাসায় জেহাদি তৈরি হয়, সেখানে সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন,” অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পক্ষে সওয়াল তসলিমা নাসরিনের

আমাদের ভারত,২ আগস্ট: মাদ্রাসায় জঙ্গি তৈরি হয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য ঘিরে এক সময় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য। আজ দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতার ফিরে সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের মুক্ত চিন্তার কথা বলতে গিয়ে মাদ্রাসা প্রসঙ্গে যে কথা লেখিকা বলেন তা একরকম বুদ্ধবাবুর কথাকেই সমর্থন করে। একই সঙ্গে মুসলিম মেয়েদের স্বাধীনতা তথা শিক্ষা ও উন্নয়নের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রয়োজন বলেও দাবি করলেন বিখ্যাত লেখিকা তাসলিমা নাসরিন।

রবিবার বাংলা অ্যাকাডেমিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মাদ্রাসায় জেহাদি তৈরি হয়। শিশু নির্যাতন ও শিশু ধর্ষণ হয়। তাই এই সব মাদ্রাসা থাকা উচিত নয়।

২০০২ সালে সীমান্ত এলাকায় কিছু অনুমোদনহীন মাদ্রাসা নিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেছিলেন, মাদ্রাসাগুলি জঙ্গি কার্যকলাপের আঁতুর ঘর হয়ে উঠেছে। এই মন্তব্য দীর্ঘ বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সেই মন্তব্যকে একরকম সমর্থন করলেন তসলিমা নাসরিন। তিনি জানালেন, বেশিরভাগ সময় মাদ্রাসা গুলি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। সেখানে ছোট থেকে অমুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ শেখানো হয়। সরকার ধর্মান্ধতাকে ভোটের জন্যই আপোষ করে। সেই কারণে মাদ্রাসাগুলিতে জেহাদিদের জন্ম হয়। সব মাদ্রাসাগুলি সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। সেখানে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। আধুনিক শিক্ষা দানের জন্য এই কাজ করা দরকার বলেই তিনি দাবি করেন।

পাশাপাশি অভিন্ন দিওয়ানি বিধির পক্ষেও সাওয়াল করেন তসলিমা। তিনি জানান, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চাই। যে কোনো সভ্য দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রয়োজন রয়েছে। “এক দেশ এক আইন”, সবার জন্য সমান আইন চাই। ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান, তিন দেশেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর পক্ষে কথা বলেন তসলিমা।

তসলিমার কথায়, যে ধর্ম নারীকে যৌনদাসী হিসেবে গণ্য করে, আমি সে ধর্মের সমালোচনা করি।। সমালোচনা করতে হবে, সমালোচনা না করলে সংস্কার হবে না। আমি সমালোচনা করি বলেই আমাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।

একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, তাঁর কোনো মন্তব্যের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি মুক্ত চিন্তায় বিশ্বাসী। তাঁর কথায়, আমি অনেক রাজ্যেই যাই, কেরালায় যাই। আমি কি সেই রাজ্যের রাজনীতির অংশ হয়ে যাই? কখনোই নয়। আমি আমার মতই থাকি। কোনো সরকার আমাকে নিরাপত্তা দেয়, কারণ নিরাপত্তা দেওয়া তাদের দায়িত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *