আমাদের ভারত, বীরভূম, ২ আগস্ট: “অতিথি দেব ভব।” অতিথিকে দেবতা জ্ঞানে আশ্রয় দেওয়াটাই আমাদের ভারতবর্ষ। কেউ যদি শরণাপন্ন হন তাকে আমরা আশ্রয় দিয়ে থাকি। সেই কারণে বাংলাদেশ থেকে বিতারিত শেখ হাসিনা, লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে ভারত সরকার আশ্রয় দিয়েছেন। এটাই ভারতবর্ষের চিরন্তন আদর্শ। বিবেকান্দন বলেছিলেন, “যে দেশ পৃথিবীর বিতারিত জাতি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছেন সেটা আমার জন্মভূমি ভারতবর্ষ।”

রবিবার বীরভূমের রামপুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন বেলডাঙ্গা ভারত সেবাশ্রম সংঘের স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ ওরফে কার্ত্তিক মহারাজ। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা, স্কুলের প্রবীণ শিক্ষক তাপস মুখোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বামী বিবেকানন্দের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করেন কার্তিক মহারাজ। বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের দেখানো পথে সমস্ত মানুষকে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
বর্তমানে দেশের ছেলে- মেয়েদের ভিন দেশে যাওয়া প্রসঙ্গে কার্তিক মহারাজ বলেন, “এখন আমাদের ছেলে- মেয়েরা বিদেশ যাচ্ছে শিক্ষার জন্য। আগে বিদেশ থেকে আমাদের দেশে আসতেন ছেলে মেয়েরা শিক্ষাগ্রহণ করার জন্য। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়া পৃথিবীর ছাত্ররা আসতেন। ১০ হাজার ছাত্র সেখানে এক সঙ্গে থাকতেন।”

টুলু মণ্ডলের পাহাড় প্রমাণ সম্পত্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জগন্নাথ দেবের হাত নেই পা নেই, চোখ বড় বড়। তাঁর পা এবং হাত হলাম কলিযুগের আমরা। আমাদের হাত তাঁর হাত। তাঁর বড় বড় চোখ দিয়ে দেখছেন কলিযুগে কে খাটের তলে টাকা রাখছে, কে বাথরুমে রাখছে, কে পাট খেতে রাখছে। তিনি সব ধরিয়ে দিচ্ছেন।”
দেশে দুর্নীতি প্রসঙ্গে মহারাজ বলেন, “দুর্নীতি আমাদের সমাজে ছেয়ে বসেছে। আমরা ধর্মের পক্ষে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বার্তা দিচ্ছি। বলছি ঘুষ দেবেন না, ঘুষ নেবেন না। দুর্নীতি মুক্ত সমাজ তৈরি করতে সমস্ত মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু সরকারের পক্ষে দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয়।”

