সিউড়ি থানায় পুলিশ কর্মীদের জামাই ষষ্ঠী

আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ৫ জুন: কথায় আছে বাঙালির ১২ মাসে ১৩ পার্বণ। এই বিশেষ দিন গুলিতে সবাই যখন পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে আনন্দ ভাগ করে নেন তখন পুলিশ কর্মীরা ব্যস্ত থাকেন কর্তব্য পালনে। পুলিশ কর্মীদেরও পরিবার আছে। তাদেরও উৎসব অনুষ্ঠানে যাওয়ার সাধ আহ্লাদ আছে। কিন্তু উপায় নেই। উৎসব অনুষ্ঠান মানেই নো ছুটি। আর সেই দিন গুলিতেই পুলিশ কর্মীদের ডিউটি বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ফলে বিশেষ দিন গুলোতে সবাই যখন আনন্দে মাতোয়ারা তখন এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্তব্য পালনে ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। এমনই পুলিশ কর্মীদের নিয়ে সিউড়ি থানাতেই আয়োজন করা হলো জামাইষষ্ঠীর। 

বীরভূমের জেলা সদর সিউড়ি থানার কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের একটু আনন্দ দিতে সিউড়ি থানার আইসি মহম্মদ আলি ভাবলেন কি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমনই কাজ। জামাই ষষ্ঠীর সকালেই থানার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পুলিশ কর্মীদের নিমন্ত্রণ পাঠালেন। থানার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নির্দেশ দিলেন সকলেই সকাল সকাল থানায় উপস্থিত হবেন। তবে পুলিশের পোষাকে নয় সাদা পাজামা পাঞ্জাবী পরে। ঊর্দ্ধতন অফিসারের নির্দেশ মত সকলেই সাদা পাঞ্জাবী পাজামা পড়ে থানায় হাজির। থানায় পৌঁছতেই অনেকেই হতবাক। থানার চত্বরেই পুলিশ কর্মীদের জন্য পাতাবাহার গাছের টব, ফুলের টব দিয়ে সাজানো হয়েছে থানা চত্বর। সঙ্গে সুন্দর চেয়ার টেবিল। ছাতা দিয়ে সাজানো হয়েছে চত্বরটি। সকলকেই বসতে বলে নিজেও বসলেন আইসি স্বয়ং। মাইকে ঘোষণা করলেন আজ আমরা জামাই ষষ্ঠী পালন করব সহকর্মীদের নিয়ে। তাই এই আয়োজন।

সবাই চেয়ার টেবিলে বসার পর সাদা পাঞ্জাবী পরে জামাই স্পেশালে পুলিশ কর্মীরা। এরপরেই শুরু হল জামাই বরণ।প্রথমেই পাঁচ রকম ফল মিষ্টি দিয়ে ফলাহার। প্রত্যেকের পাতে পড়ল আম, লিচু, জাম, খেজুর মিষ্টি আরও কত কি। এর পরেই টিফিনে এল লুচি আলুর দম, গোলাপ জাম মিষ্টি। বাড়িতে না যেতে পেরেও এই জামাই আদরে খুশী পুলিশ কর্মীরা।

সিউড়ি থানার এক পুলিশ কর্মী বলেন, “জানি না এই রাজ্যের আর কোন থানায় এই আনন্দ আজ হয়েছে কিনা। কিন্তু আমরাও তো কারও বাড়ির জামাই। তাই মনে হয় বাড়ি যেতে পারলে ভালো লাগতো। কিন্তু আজ যে আয়োজন হয়েছে তাতে বাড়ি যেতে না পারার কষ্টটা ভুলে গেলাম।” 

খাওয়া দাওয়ার মাঝেই হল গান বাজনা। হাতে তালি দিয়ে অনেকেই গান গাইলেন। কিন্তু এত আনন্দের মাঝেও কর্তব্য থেকে সরে যায়নি কেউই।থানায় আগতদের পরিষেবাও দেওয়া হল নিয়ম মেনেই। ফের ড্রেস পরে ডিউটিতে রওনা দিল সবাই। আবার দুপুরে খাওয়া দাওয়া। 

জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল জামাই ষষ্ঠীর মত বিশেষ দিন গুলোতে বাড়ির আত্মীয় স্বজনদের ছেড়ে যারা দিন রাত ডিউটি করছে তাদেরকে একটু আনন্দ দেওয়া। সেই লক্ষ্যে আমরা সফল”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *