সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৮ মে:
অবৈধপথে খোলামুখ কোলিয়ারি থেকে কয়লা পাচারের অভিযোগে বড়জোড়া পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ২৬ জন। গতকাল পুলিশ অভিযান চালায়। আজ তাদের আদালতে তোলা হলে ১৬ জনের জেল হেফাজত হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
বড়জোড়া নর্থ খোলামুখ কোলিয়ারিতে অবৈধভাবে কয়লা পাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এনিয়ে ২০১৫ সাল থেকে বিধানসভায় বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তৎকালীন বাম বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী। কিন্তু সেভাবে কয়লা পাচারকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে প্রাক্তন বিধায়কের দাবি। এই খনির বরাত পেয়েছে রাজ্য সরকারের সংস্থা পিডিসিএল। মঙ্গলবার বড়জোড়া পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়লা চুরির অভিযোগে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার ঘুটগড়িয়া পঞ্চায়েতের বাগুলিতে অবস্থিত বড়জোড়া নর্থ খোলামুখ কোলিয়ারি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, দিনে দুপুরে অবৈধভাবে কয়লা চুরির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এদিন পুলিশ ওই কয়লা খনিতে অভিযান চালিয়ে ২৬ জনকে গ্রেফতার করে। বুধবার পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের জেলা আদালতে তোলা হলে ১৬ জনকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক এবং বাকি ৮ জনকে জামিনে মুক্তি দিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ৫০ টন কয়লা সহ বেশ কিছু সাইকেল ও মোটর বাইক আটক করা হয়েছে।
যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মতো প্রতিদিন কয়েকশো লোক কোলিয়ারিতে কয়লা কুড়িয়ে মজুত করে। তারপর সাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকায় তারা বিক্রি করে। এই কয়লা কুড়ানোর ব্যাপারটা অত্যন্ত বিপদজনক। খোলামুখ খনিতে মজুত কয়লার মাটি মেশানো উপরি ভাগ যন্ত্র দিয়ে কেটে তা ডাম্পারে লোড করে কিছুটা দূরে ফেলা হয়। তাতে পাহাড়ের মতো উঁচু হয়ে ওঠে। এর সাথে মাটি, পাথর ও কিছু কয়লা থাকে। সেই কয়লা বেছে নিয়ে মজুত করে কিছু লোক। যখন পাড়ের উপর ডাম্পারে করে এই সব ফেলা হয় তখন পাথর কয়লা সবই গড়িয়ে নীচে পড়ে। কয়লা কুড়াতে আসা লোকজন পাড়ের নীচ থেকে গা বেয়ে দাঁড়িয়ে তা সংগ্রহ করে। এতে বহুবার দুর্ঘটনাও ঘটেছে। পিডিসিএল বরাত পাওয়ার আগে কিছুদিন কয়লা উত্তোলন বন্ধ ছিল। সেই সময় রাতের অন্ধকারে কয়লা কাটতে এসে সুড়ঙ্গ ধসে ৪ জন মারা যান। তারপর পিডিসিএল দায়িত্ব পাওয়ার পর তা বন্ধ হলেও মাটি পাথর সরিয়ে কয়লা সংগ্রহ করে এলাকার কয়েকশো গরিব পরিবার।
বড়জোড়ার বিধায়ক অলক মুখার্জি বলেন, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সতর্ক করা হলেও আটকাতে পারেনি। তাই প্রশাসন তাদের কাজ করেছে।
এদিকে প্রাক্তন বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী বলেন, যারা এভাবে কয়লা কুড়ানোর কাজ করেন তা সত্যিই বিপদজনক। কিন্তু তাদের এভাবে মৃত্যুর মুখে ফেলে কারা আসল পাচারকারি তাদের পুলিশ ধরছে না। সুজিত চক্রবর্তীর অভিযোগ তৃণমূল – বিজেপির আঁতাতেই এই খনি থেকে কয়লা পাচার হয়। তিনি বলেন, যাদের ধরপাকড় করে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা পেটের দায়ে এই কাজ করছে। কিন্তু লরির পর লরি অবৈধপথে কয়লা পাচার হচ্ছে বলে আমি বিধানসভায় জানিয়েছিলাম। তারপর নাম মাত্র তদন্ত হয়, একটা রিপোর্ট পাঠানো হয়। কিন্তু আসল পাচারকারিরা বহাল তবিয়তে থাকে। এখানে পিডিসিএল কয়লা উত্তোলনের দায়িত্ব দিয়েছে একটি ঠিকা সংস্থাকে। এ বিষয়ে পিডিসিএল বা ওই ঠিকা সংস্থার কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

