রাজেন রায়, কলকাতা, ১২ জানুয়ারি: করোনা বিধি মেনে গঙ্গাসাগর মেলা করতে অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষের ওপর নজরদারি কি সম্ভব রাজ্য প্রশাসনের? শুধু সড়কপথে নয়, জলপথেও মানুষ আসেন মেলায় যোগ দিতে। তাই এত মানুষের আরটিপিসিআর পরীক্ষা করা আদৌ সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নই তুলে দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মেলা করার ক্ষেত্রে কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম আরটিপিসিআর পরীক্ষা। মেলার প্রত্যেক পূণ্যার্থীর আরটিপিসিআর টেস্ট করার কথা বলেছে আদালত। বুধবার বাবুঘাটে গঙ্গাসাগর মেলার যাত্রীদের বার্তা দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কুম্ভমেলায় যে সব পূণ্যার্থীরা যান তাঁরা মূলত সড়কপথে যান। কিন্তু গঙ্গাসাগরের ক্ষেত্রে অনেকেই জলপথে আসেন, তাই সবার আরটিপিসিআর টেস্ট করানো সম্ভব নয় বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “নিজেদের স্বাস্থ্যের ওপর নজর দিতে হবে। বাকি সব কাজ আমরা করে দিয়েছি। হাইকোর্ট মেলা নিয়ে যে নির্দেশ দিয়েছে, তা আমাদের মেনে চলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাইরে থেকে যারা আসছেন, তাঁদের ওপর নজর দিতে হবে। কেউ করোনা আক্রান্ত হলে, তাঁকে আলাদা করে রাখতে হবে, প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য নিতে হবে” বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দেন, মেলায় এবার অধিক আয়োজন করার কোনও প্রয়োজন নেই। এবার যত ছোট করে সম্ভব মেলা করতে হবে। এবার বেশি হই-হুল্লোড় করার মতো পরিস্থিতি নেই বলেও সতর্ক করেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মেলায় কাজ করার মতো স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরও অভাব রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রত্যেকবার ভারত সেবাশ্রমের সদস্যরা অনেক কাজ করেন। কিন্তু এবার ভারত সেবাশ্রমের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সদস্যদের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত অথবা তাঁদের পরিবারের কেউ না কেউ আক্রান্ত, তাই তাঁদের পক্ষ থেকে ভলান্টিয়ার পাঠানো সম্ভব হয়নি। মমতা আরও উল্লেখ করেন, পুলিশ আধিকারিকরাও অনেকেই আক্রান্ত। আধিকারিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেলার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

