Suvendu, BJP, “কতদিন বিজেপির সঙ্গে যুক্ত বিচার্য নয়, যে জিততে পারবে তাকেই দেওয়া হবে টিকিট,” প্রার্থী বাছাই প্রসঙ্গে বড় মন্তব্য সুকান্তর

আমাদের ভারত, ৩০ আগস্ট: সামনেই পুরো ভোট। নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই পুরো ভোট করার চিন্তা- ভাবনা করছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে সেটা প্রায় পরিষ্কার। দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও পুরো ভোটের প্রস্তুতি জোর কদমে শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই দলের বিধায়ক ও মন্ত্রীদের দায়িত্বও ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুরোভোট সামলানো দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুকান্ত মজুমদারকে। আর সেই প্রেক্ষিতেই ভোটের প্রার্থী নির্ণয়ের জন্য প্রধান মাপকাঠি কী হতে চলেছে তাও স্পষ্ট করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী। এই ভোটে কারা টিকিট পাবে তা আগাম জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। যা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।

সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট জানিয়েছেন, পুরো ভোটের প্রার্থী নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।কোনো প্রয়োজনও নেই এত তাড়াহুড়ো করার। ভোটের প্রার্থী ঝাড়াই- বাছাইয়ের সময় কী কী বিষয় দেখা হবে, কোন কোন মাপকাঠিতে টিকিট দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করেছেন তিনি। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি জানিয়েছেন, যে জিতবে তাকেই প্রার্থী করবে বিজেপি। দলের সঙ্গে কে কতদিন যুক্ত তা এক্ষেত্রে বিচার্য নয়।

সুকান্ত মজুমদার বলেন, সমস্ত বিষয় দেখা হবে। তাদের ভাবমূর্তি, তাদের জনপ্রিয়তা, তাদের মানুষ চেনেন কি না। স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেটা প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে বিজেপির সঙ্গে কে কতটা যুক্ত সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটা ফ্যাক্টর নয়। নির্বাচনে যে জিততে পারবে তাকেই টিকিট দিতে হয়। পার্টির সংগঠনের ক্ষেত্রে হয়তো ভাববেন কে পার্টির পুরনো লোক, কে নতুন লোক, কিন্তু ভোটে কে জিততে পারবে তিনিই প্রার্থী।

সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্যকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপিতে যোগ দিয়েই টিকিট পেয়েছিলেন সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বড়াইক। তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ ছিলেন কারা? ভোটের রেজাল্টের পর সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন ৩ সংসদ। একই সঙ্গে তৃণমূল ছাড়েন তারা। এরপর শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন তারা। শুধু তাই নয়, দলে যোগদানের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাদের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তাদেরকে উপনির্বাচনের টিকিট দিয়েছে বিজেপি।

অন্যদিকে অঙ্ক বলছে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্ববিন্যাসের জেরে ২০৯টি ওয়ার্ড হবে। সেই হিসেবে বিজেপিকে পৌরসভার ক্ষমতা দখল করতে গেলে ১০৫টি আসন পেতে হবে। এই মুহূর্তে রাজনৈতিক শক্তির অঙ্ক মেলানো খুব সহজ হবে না। সবকটি আসনে লড়ার জন্য প্রার্থী দিতে গেলে দলের পুরনো কর্মী কি না সেই হিসেবে নিকেষ করাটা হয়তো সম্ভব নয়, তাই সেই বাস্তবতাকে গ্রহণ করেই সুকান্ত মজুমদারের এই মন্তব্য বলে মনে করা হচ্ছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *