আমাদের ভারত, খড়দহ, ৯ অক্টোবর: আজ খড়দহের কলত্র অনুষ্ঠান গৃহে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হলো ‘দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির ট্রাস্ট’-এর ‘আগমনী আহবান’। পিতৃপক্ষের অন্তিম দিনে – দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের চণ্ডী মহারাজ এবং ভোলা গিরি আশ্রমের সোমেশানন্দ গিরি মহারাজ। মহারাজরা নারী শক্তির জয়গান করেন এবং দেশের মাটির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তাঁদের হাতে বস্ত্র, ফলমূল, মিষ্টান্ন- সহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ট্রাস্টের সভাপতি ড. সুশান্ত মজুমদার।
সমাজসেবী কাজু রায়, বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায়, শান্তনু রুদ্র, পীযূষ দেব, ড. রুবেল পাল, গোপাল ভট্টাচার্য- সহ এলাকার বহু বিশিষ্ট ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন পুস্পিতা বোস গুহ। মহালয়ার আবহকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলতে ভার্গব ভট্টাচার্য চণ্ডীপাঠ করেন ও স্তোত্রপাঠ করেন সঙ্ঘমিত্রা মিশ্র। ‘পূর্বা ভারতনাট্যম নৃত্যশিক্ষা’ কেন্দ্রের কর্ণধার পামলি রায় ও তার সম্প্রদায়ের শিল্পীদের অপূর্ব নৃত্য পরিবেশনা এবং ড. সুমন রায়ের ভাষ্যপাঠ অনুষ্ঠানকে বিশেষ মাত্রা প্রদান করে। একক নৃত্য পরিবেশন করেন অঙ্গনা সাহা।
সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন – ঈশিতা দত্ত, অঞ্জনা দাস, মিঠু নন্দী, মৌলী মুখার্জি। আবৃত্তি পরিবেশন করেন – সুমনা মুখার্জি, যোগমায়া হাইত, ছন্দা হালদার।
সমগ্র অনুষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন জীতা লাহিড়ী, নারায়ণ মন্ডল, সুব্রত সাহা, অরিন্দম ঘোষ,সুদীপ সিকদার ও আরও অনেকে এবং সঞ্চালনা করেন শৈবাল শরখেল।
শতাধিক দর্শক ও দেশের মাটি কল্যাণ মন্দিরের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়। শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চেতনার মেলবন্ধনে দেশের মাটি কল্যাণ মন্দিরের এই আগমনী অনুষ্ঠান দেবীপক্ষের আগমন বার্তাকে আরও অর্থবহ করে তুলল।
দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির -এর সম্পাদক মিলন খামারিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে, মা আসছেন মর্তে। তাঁর আগমনে মর্তে নেমে আসে খুশীর হাওয়া। সেই আনন্দের পথকে সুগম করতেই দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির -এর এই আয়োজন। সংস্কৃতির কেন্দ্র খড়দহতে বেজে উঠুক আগমনীর বাদ্য।

