Vidyasagar University, Midnapur, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জে. এন. মহান্তির দর্শনচিন্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৪ জুলাই: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন ও জীবন জগৎ বিভাগের উদ্যোগে ১৪ জুলাই বি. এন. শাসমল হলে “ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে সেতুবন্ধন: সমকালীন চিন্তায় জে. এন. মহান্তির দার্শনিক অবদানের অনুসন্ধান” শীর্ষক একদিনের আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

এই সেমিনারে বিশিষ্ট দার্শনিক জে. এন. মহান্তির দর্শনচিন্তার সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা, বিশেষত ভারতীয় দার্শনিক ঐতিহ্য এবং আধুনিক বৌদ্ধিক চিন্তার মধ্যে সেতুবন্ধন রচনায় তাঁর অবদান নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সেমিনারটি এক সমৃদ্ধ বিদ্যাচর্চার পরিসরে পরিণত হয়।

উদ্বোধনী অধিবেশনের সূচনা হয় জাতীয় সঙ্গীত ও বিদ্যাসাগর বন্দনার মাধ্যমে। এরপর পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রতীক হিসেবে একটি চারাগাছে জল প্রদান করা হয়। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কর সেমিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও বাণিজ্য অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক অরিন্দম গুপ্ত, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব ফিলোসফিক্যাল রিসার্চ (ICPR)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক নির্মাল্য নারায়ণ চক্রবর্তী, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মধুছন্দা সেন, উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড: সরোজ কান্ত কর, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড: জয়ন্ত কিশোর নন্দী, এবং বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন ও জীবন- জগৎ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ঝাড়েশ্বর ঘোষ।

অধ্যাপক ঝাড়েশ্বর ঘোষ স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন। পরবর্তীতে অধ্যাপক অরিন্দম গুপ্ত এবং ড: জয়ন্ত কিশোর নন্দী উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। অধ্যাপক পাপিয়া গুপ্ত ধন্যবাদজ্ঞাপনের মাধ্যমে উদ্বোধনী অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সেমিনারে দুটি কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন ও জীবন- জগৎ বিভাগের অধ্যাপক তপন কুমার দে। এই অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক নির্মাল্য নারায়ণ চক্রবর্তী এবং অধ্যাপক মধুচ্ছন্দা সেন। তাঁদের বক্তব্যের পর অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে প্রাণবন্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় কারিগরি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক পাপিয়া গুপ্ত। এই অধিবেশনে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ড: সরোজ কান্ত কর। আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয় এবং অধ্যাপক তপন কুমার দে ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন।

জে. এন. মহান্তির দর্শনচিন্তার বহুমাত্রিক অবদান নিয়ে সমালোচনামূলক আলোচনা ও মতবিনিময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে এই আন্তর্জাতিক সেমিনার বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সমকালীন দর্শন, সংস্কৃতি ও সমাজচিন্তার প্রেক্ষাপটে তাঁর ভাবনার স্থায়ী গুরুত্বও এই সেমিনারে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়। জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *