অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২১ ফেব্রুয়ারি: “২১শে ফেব্রুয়ারি ছিল রাষ্ট্রভাষার সংগ্রাম, মাতৃভাষার নয়। বাংলাভাষী মুসলমান সমাজ বুঝেছিল যে মাতৃভাষা বাংলা যতই অ-ইসলামী হোক না কেন পাকিস্তানে সরকারী কাজেকর্মে নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে হলে, শাসন ক্ষমতার অংশীদার হতে হলে বাংলা ভাষাকে সরকারী মর্যাদা পেতে হবে।“
ভাষা দিবসে এভাবেই তাঁর ভাবনার কথা জানালেন গবেষক মোহিত রায়। তাঁর কথায়, “পূর্ব পাকিস্তানে যে সব বাংলা পত্রিকা বাংলা ভাষার পক্ষে বক্তব্য রাখে তাদের নাম পয়গাম, দৈনিক আজাদ, ইত্তেফাক, ইনসান, ইনসাফ আর সহায়ক সংগঠনটির নাম তমদ্দুন মজলিস। এই হচ্ছে বাংলা ভাষা প্রীতির ইসলামী উদাহরণ। ১৯৫২ সালে ঢাকায় পুলিশের গুলিতে ৪ জনের মৃতুর পর ১৯৫৪ সালের বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃত হয়। এখানেই রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সমাপ্তি।
এই লড়াইয়ের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ন্যূনতম কোনও সম্পর্ক নেই। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হল তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কিছু যায় আসে না। কারণ বাংলাভাষী মুসলমানরা বাংলাভাষী হিন্দুদের পূর্ব পাকিস্তানে বা পরে বাংলাদেশে একই রকম নির্যাতন করে চলেছে। পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ সৃষ্টির সঙ্গেও ভাষার ন্যূনতম কোনও সম্পর্ক নেই।
আজকের বাংলাদেশে সংস্কৃত-দুহিতা বাংলা ভাষাকে নিপীড়ন করে তৈরী হচ্ছে ইসলামী বাংলা। যারা সন্তানদের নাম রাখে আরবীতে, পাঁচ হাজার বছরের ভারতীয় সংস্কৃতির উত্তরাধিকার স্বীকার করে না তারা ঘটনাক্রমে বাংলাভাষী হলেও বাঙ্গালী নয়। পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশ বানাতে ইসলামি সন্ত্রাসের সঙ্গে চলছে সাংস্কৃতিক আক্রমণ। ২১শে ফেব্রুয়ারি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সেকুলার উচ্ছ্বাস সেই সাংস্কৃতিক আক্রমণের একটি বর্শামুখ।“

