ভাষা নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা মুম্বাইয়ের এসএনডিটি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ডঃ ভারতী সেন জানালেন অশোক সেনগুপ্তকে।
আমাদের ভারত, ২১ ফেব্রুয়ারি: আমার বাংলা ভাষার হাতেখড়ি হয়েছিল মায়ের কাছে। মা মানে স্বাধীনতা সংগ্রামী সুনীতি চৌধুরী। কবে গল্পের বই পড়তে শুরু করলাম মনে নেই। গল্পের বইয়ের জন্যই বাংলার ভিত পাকা হয়েছিল। পড়াশোনা কনভেন্টে হলেও বাংলা মনে গেঁথে রইল। প্রবাসে গিয়েও বাংলা ভুলিনি। মেয়েকেও লিখতে পড়তে শিখিয়েছি। কিন্তু ও এখন প্রায় ভুলে গেছে কারণ কাজেকর্মে ব্যবহার হয় না।
কষ্ট হয় যখন দেখি বাংলা সিরিয়ালে হিন্দি গান ব্যবহার করা হয়। জানি না এতে বাঙালির প্রতিভার অভাব না ভাষার প্রতি অনীহা—কোনটা প্রতিফলিত হয়? বানিজ্যিক মূল্য না থাকলে ভাষার ব্যবহার কমে যায়। যে কোনও জীবন্ত ভাষা অন্য ভাষার কাছে শব্দ আহরণ করে। কিন্তু যখন শুনি একটা ১০ শব্দের বাক্যের ৫টাতেই ইংরেজি অথবা হিন্দি, তখন বুঝি না এটা কি বাংলা ভাষা? এই অবস্থা শুধু মুম্বইতেই নয়, খাস কলকাতাতেও বাংলা ভাষার অবস্থা ভালো নয়। মায়ের কাছে শিখেছিলাম বাংলা লেখা ও কথায় ইংরেজি যথাসম্ভব কম ব্যবহার করতে। আমিও ভাষণ দেওয়ার সময় শুধু বাংলা শব্দ ব্যবহারের চেষ্টা করি। এখানে প্রবাসে দুর্গা পূজার সময় কিছু বাংলা চর্চা হয় তবে পরের প্রজন্ম তাতে খুব অংশগ্রহণ করে তা না। তবে যাঁরা সম্প্রতি বাংলা থেকে এসেছে, তাঁরা নতুন নাটক, গান ইত্যাদি করার চেষ্টা করেন। বাংলা ভাষার ব্যবহার কমেছে কেন না এই ভাষার বাণিজিক সম্ভাবনা সীমিত।

