আমাদের ভারত, ২ অক্টোবর: রক্তাক্ত অবস্থাতেও নিজের কর্তব্যে অবিচল থেকে শতাধিক প্রাণ বাঁচিয়েছেন বীর পাইলট স্মিথ। তাঁর সঙ্গে শুক্রবার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছুরির আঘাতে ব্যাপক আহত হয়ে আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। সেখান থেকেই ভিডিও কলে শুক্রবার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এই কথোপকথনের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতীয়রা কখনো প্রাণ কেড়ে নেয় না জীবন রক্ষা করে। সেটাই স্মিথ আবারও করে দেখিয়েছেন গোটা বিশ্বকে।
৯/১১ এর মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। মৃত্যু হতে পারত বহু মানুষের, কিন্তু প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অসীম সাহসিকতা দেখিয়েছেন ভারতীয় পাইলট। গুজরাটের ভূমিপুত্র স্মিথের পরিবারের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার তিনি কথা বলেন স্মিথের সঙ্গে। কঠিন পরিস্থিতিতে যখন নিজের জীবন বিপন্ন, তখনও অসীম বুদ্ধিমত্তা ও সাহসের পরিচয় দিয়েছেন স্মিত। ভারতীয় পাইলটের এমন বীরত্ব দেখে গোটা দেশ গর্বিত বলে দাবি করেছেন মোদী।
স্মিথের মা আগেই প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন তিনি গীতার শিক্ষা দিয়ে ছেলেকে বড় করেছেন। সে কথাও উল্লেখ করেন এদিন মোদী। তিনি বলেন, আপনার মধ্যে গীতার সংস্কার রয়েছে। আপনি গোটা বিশ্বের সামনে সেই সংস্কৃতি তুলে ধরেছেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আপনি বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গোটা দেশ আপনাকে নিয়ে গর্ব করছে। আগামী দিনে গোটা বিশ্ব ভারতীয় পাইলটদের কোন চোখে দেখবে আপনি নিজের সাহসিকতার মাধ্যমে সেই দিশা দেখিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি বিমান ক্রাশ করতো বা হাইজ্যাক হয়ে যেত তাহলে সন্দেহভাজনের তালিকায় ভারতীয় পাইলটদের নামও জুড়ে যেতে পারত, কিন্তু সেটা রুখে দিয়েছেন স্মিথ। কিন্তু তার কৃতকর্মে উঁচু হয়েছে ভারতীয় পাইলটদের মাথা।
রাশিয়া- ইউক্রেন, আমেরিকা- ইরান যুদ্ধ চলছে। ভারত বারবার সেই যুদ্ধ বন্ধের বার্তা দিয়েছে। পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসীরা প্রচুর মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। সেই নিয়ে পাকিস্তানকে বারবার কড়া বার্তা দিয়েছে ভারত। ফলে এই ইস্যুতে সরাসরি মোদী সেকথা না বললেও অনেকেই মনে করছেন এইদেশ গুলির প্রতি এক প্রচ্ছন্ন বার্তা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী কথায়। যুদ্ধরত দেশ, সন্ত্রাসে মদত দেওয়া দেশগুলির মতো ভারতীয়রা কখনো প্রাণহানি ঘটায় না বরং সর্বস্ব দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষা করতে এগিয়ে যায়, এই কথার মাধ্যমে পরোক্ষে তাদের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন প্রধানমন্ত্রী বলেই অনেকে মনে করছেন।

