ভারত হিন্দুদের দেশ, এখানে সব মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া উচিত, মন্তব্য হিমন্ত বিশ্বশর্মার

আমাদের ভারত, ১০ নভেম্বর: আবারও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তার স্পষ্ট বক্তব্য, ভারত হিন্দুদের দেশ এদেশের সবকটা মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, ১৯৪৭ সালে ইন্ডিয়া কথাটা এসেছে। কিন্তু তার আগে সাত-হাজার বছর ধরে হিন্দু হিসেবে আমরা পরিচিত ছিলাম। তাঁর মতে মাদ্রাসা বন্ধ করে মেডিকেল কলেজ তৈরি করা প্রয়োজন।

বুধবার একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার মূলক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, “আমি সভ্যতায় বিশ্বাস করি,আর আমি বিশ্বাস করি আমাদের সভ্যতা হিন্দু সভ্যতা।” অসমের মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি চান দেশের সবকটা মাদ্রাসা বন্ধ করে সেখানে মেডিকেল কলেজ কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হোক। কারণ মাদ্রাসায় তৈরি হয় মোল্লা। আর ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয় ডাক্তার, দার্শনিক।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি যদি মুসলিম এলাকায় গিয়ে তাদের বলি আমি আপনাদের সন্তানকে মোল্লা নয় চিকিৎসক বানাতে চাই তাহলে ওদের খুশি হওয়া উচিত।”

ইতিমধ্যেই হিমন্ত বিশ্বশর্মার রজ্য অসমে সরকারি খরচে চলা মাদ্রাসাগুলি বন্ধ হয়েছে। তিনি এবার চান গোটা দেশেই মাদ্রাসা বন্ধ করা হোক। তার এই মন্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। আগেই অসমের সরকারি মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে বলে একাংশ সরব হয়েছিল। কিন্তু অসমের মুখ্যমন্ত্রী আরও একবার নিজের মত ও সিদ্ধান্তের পক্ষে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে দাড়িয়ে সওয়াল করলেন।
মাদ্রাসার প্রসঙ্গ ছাড়াও সিএএ-র বিষয়েও তিনি তার সুচিন্তিত মত প্রকাশ করেছেন ওই সাক্ষাৎকার মূলক অনুষ্ঠানে। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন এরপর তিনি সংশোধিত নাগরিকত্ব বিল কার্যকর করা নিয়ে সরব হবেন।

তিনি বলেন, বিহার কিংবা উত্তরপ্রদেশে দাঁড়িয়ে ধর্ম হয়তো ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু অসমের মত রাজ্যে ধর্ম ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এখানে উদ্বাস্তুরা অমুসলিমদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আফগানিস্তান প্রসঙ্গ মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন,‌”সেখানে যা হলো তারপর আশা করি আর কেউই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করবে না”। তার দাবি, ভারত হিন্দুদের দেশ কেউ‌ হিন্দুদের শিকড় কখনো থেকে আলাদা করতে পারবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *