পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২ এপ্রিল: পরিবর্তন নয়, প্রত্যাবর্তনেই রাজ্য দাপালো ঘাস ফুল। বাম- তৃণমূলের লড়াইয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরে নিশ্চিহ্ন বামফ্রন্ট। দিনভর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর তিনটি করে আসন গেল ঘাসফুল ও পদ্ম শিবিরের দখলে। রবিবার সকাল থেকেই বালুরঘাট ও বুনিয়াদপুরে ভোট গণনা ঘিরে টানটান উত্তেজনা চোখে পড়ে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া ঘেরাটোপে এদিন শুরু থেকেই সকলের নজর ছিল জেলার সদর শহর বালুরঘাট কেন্দ্রের দিকে। তৃণমূলের মনোনীত প্রার্থী শেখর দাসগুপ্তকে ১৮ রাউন্ড গণনা শেষে ১৩৪৩৬ ভোটে হারিয়ে দেন বিজেপি প্রার্থী অশোক লাহিড়ী। বিগত নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই তৃণমূলকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন বাম প্রার্থী বিশ্বনাথ চৌধুরী। এবারে ভোটের নিরিখে এই কেন্দ্রে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় বামফ্রন্ট।
অপর দিকে বালুরঘাটের পাশ্ববর্তী তপন বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথম থেকে তৃণমূল প্রার্থী কল্পনা কিস্কু এগিয়ে থাকলেও শেষ ২২ রাউন্ড গণনায় মাত্র ১২৮০ ভোটে ভাগ্য খুলে যায় বিজেপি প্রার্থী বুধরাই টুডুর। এখানেও ধারাশায়ী হয়েছে বাম প্রার্থী। গঙ্গারামপুরে উল্লেখযোগ্য ভাবে তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌতম দাসকে হারিয়ে বাজিমাত করেন বিজেপি প্রার্থী সত্যেন্দ্রনাথ রায়। গত বারের নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে হেরে যাওয়ার পরেও এবারে ৪২৮০ ভোটে জয় লাভ করেন সত্যেনবাবু। যদিও এই পরাজয় মেনে নিতে পারেননি গৌতম দাস। লজ্জাজনক হারের জন্য তিনি অবশ্য স্থানীয় কিছু নেতৃত্বকেই দায়ী করেছেন।
২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় ৪টি আসনই বামফ্রন্টের দখল থাকলেও এবারে তৃণমূল বিজেপির দ্বিমুখী লড়াইয়ে একপ্রকার মুছে গিয়েছে তারা। জেলায় সবচেয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন কুমারগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী তোরাব হোসেন মন্ডল। গতবারের জেতা আসন হলেও এবারে প্রায় তার চেয়ে দ্বিগুন প্রায় ৩০ হাজার ভোটে জয়ী হন তিনি। বিজেপি প্রার্থী মানস সরকার তার হার শিকার করে নিতে বাধ্য হন। এদিকে হরিরামপুরে জয়ের স্বপ্ন দেখলেও বাম বিজেপির ঘর ভেঙ্গে তছনছ করে শেষ হাসি হাসেন তৃণমূল প্রার্থী বিপ্লব মিত্র। তিনি তার পুরনো দক্ষতা দিয়ে জয়ের পথ নিশ্চিত করেছেন এই কেন্দ্রে। জেলার অপর কেন্দ্র কুশমন্ডি আসনে দীর্ঘদিন বামেদের দখলে থাকলেও এবারে তা হাত ছাড় হয়েছে। সেখানেও জয়ী হয়েছে তৃণমূল প্রার্থী রেখা রায়। তৃণমূল নেতৃত্বদের দাবি, জেলায় উন্নয়নের পক্ষে ভোট হয়েছে। কিছু আসনে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোট আদায় করেছে বিরোধীরা।
গঙ্গারামপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা জেলা সভাপতি গৌতম দাস জানিয়েছেন, মানুষের রায় তিনি মাথা পেতে নিয়েছেন। তবে গঙ্গারামপুর শহরে বেশ কিছু নেতৃত্বদের এলাকায় তাদের সাংগঠনিক চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে।
বিজেপির জেলা সম্পাদক বাপি সরকার জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে তাদের ফল আশাপ্রদ না হলেও এজেলায় তাদের আশানুরুপ ফল হয়েছে। তিনটি আসল দখল নিয়ে জেলায় সাংগঠনিক ভিত মজবুত করেছেন।
এদিকে জয়ী তৃণমূল প্রার্থী তোরাব হোসেন মন্ডল ও বিপ্লব মিত্ররা জানিয়েছেন, মানুষের আশীর্বাদ যে তাদের সাথে রয়েছে এদিনের বিপুল ভোটে জয়লাভ তা প্রমাণ করেছে। আগামী দিনে মানুষের জন্যই কাজ করে যাবেন।
বালুরঘাটের বিজেপির জয়ী প্রার্থী অশোক লাহিড়ী জানিয়েছেন, বালুরঘাটের মানুষ তাকে আশীর্বাদ করেছেন। তিনি সকলের বিধায়ক। মানুষের জন্যই কাজ করে যাবেন।

