অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২৫ মার্চ: উপমহাদেশের উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনার ৫১ বছর পূর্ণ হল শুক্রবার। শনিবার প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজের একটি আলোচনাসভায় স্মরণ করা হবে দিনগুলোর কথা।
১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশে পাক সেনারা ব্যাপক গণহত্যা চালায়। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ হঠাৎ করে ইয়াহিয়া খানের ঘোষণায় ৩ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন স্থগিত করা হল। আপামর জনতা বিদ্রোহ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসমাবেশে পতাকা উত্তোলন। ৩ মার্চ ঘোষণা হল পল্টন ময়দানে স্বাধীনতার ইশতেহার, জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। বহু প্রতীক্ষিত ৭ মার্চ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। অসহযোগ আন্দোলন, যুদ্ধের প্রস্তুতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা বাংলাদেশে। ২৫ মার্চ। সন্ধ্যা থেকে প্রতিরোধের প্রস্তুতি।
সেই দুঃসময়ের স্মৃতিতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে: আগুন জ্বলছে পলাশীর বস্তিতে, বিদ্রোহ ইপিআর ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে, দাউদাউ করে জ্বলছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা। রাতের শেষ প্রহরে কামানের গর্জন। আগুনের ফুলকি চতুর্দিকে। সামরিক শাসক ইয়াহিয়ার নির্দেশে, জেনারেল টিক্কা খানের নেতৃত্বে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামের সামরিক অভিযানে সংঘটিত হয় ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা। রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানার তৎকালীন ইপিআর ক্যাম্প, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, রোকেয়া হল, জহুরুল হক হলসহ সারা ঢাকা শহরে তারা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। ২৬ মার্চ সকালে ঢাকা থেকে বের করে দেওয়া হয় বিদেশি সাংবাদিকদের; যাতে কেউ গণহত্যার কোনও সংবাদ পরিবেশন করতে না পারেন।
রক্তাক্ত দিনগুলোর কথা ফুটে উঠবে শনিবার দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্কে প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজের কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল এবং ইতিহাস বিভাগের আলোচনাসভায়। মুখ্য বক্তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক মাহবুবার রহমান। বিষয়— ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার, জেনোসাইড অ্যান্ড রেপ কমিটেড বাই পাকিস্তানি মিলিটারি অ্যান্ড দেয়ার কোবেবরেটর্স’।

