চন্দননগর পুর নির্বাচনে বিজেপির ভাঁড়ার শুন্য, ৩১টা আসন তৃণমূলের, বাম ১টা

আমাদের ভারত, হুগলি, ১৪ ফেব্রুয়ারি: চন্দননগর পুরনিগমে যাতে নজর না লাগে। তাই একটা কালো টিপ হিসেবে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডকে দিলাম। ভেবেছিলাম হয়তো বিরোধীরা দুটো ওয়ার্ড পাবেন। কিন্তু সেটাও হল না। সোমবার চন্দননগর পুর নির্বাচনের ফলাফল বের হওয়ার পর এমনই প্রতিক্রিয়া জানালেন চন্দননগরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন।

চন্দননগর পুরনিগমে মোট ৩৩টা ওয়ার্ড। ১৭নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী মারা যাবার কারণে ওই ওয়ার্ডে ভোট হয়নি। স্বাভাবিক ভাবেই ৩২টা ওয়ার্ডে নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে তৃণমূল পেয়েছে ৩১টা আসন। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাম প্রার্থী অভিজিৎ সেন একটি আসন পেয়েছে। চন্দননগরে এবার বিজেপির ভাঁড়ার শুন্য। অর্থাৎ বিজেপি একটিও আসন পায়নি।

এদিন সকাল থেকেই চন্দননগরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা কাউনটিং সেন্টারের আশেপাশে ভিড় জমিয়েছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাওয়া বুঝে বিরোধীরা ধীরে ধীরে চলে যেতে শুরু করেন। একই সঙ্গে গোটা চন্দননগর জুড়ে তৃণমূলের পতাকা নিয়ে কর্মী সমর্থকরা দাপাদাপি শুরু করেন। একের পর এক ওয়ার্ডে তৃণমূলের জয়ের খবর আসতেই সবুজ আবীর খেলায় মেতে ওঠেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। চন্দননগরের রাজপথ পুরো সবুজ আবীরে ভরে যায়। পাশাপাশি তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা মেতে ওঠেন আইন ভাঙার খেলায়। চন্দননগরের জিটিরোড, বাগবাজার, স্টেশন রোড, মহাডাঙ্গা কলোনী সহ একাধিক জায়গায় প্রকাশ্যে ডিজে বাজিয়ে চলে উদ্যাম নাচ। চন্দননগরের কোথাও পুলিশ ডিজে বাজানোর বিরুদ্ধে কোনও ব্যাবস্থা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় প্রথম দিনেই চন্দননগরের মানুষজন বেশ বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

এদিন নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে নির্বাচিত সকল কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে বলেন, এই জয় মানুষের জয়। দলনেত্রী নির্দেশ দিলেই কয়েক দিনের মধ্যেই চন্দননগরে মেয়র নির্বাচন হয়ে যাবে। আমাদের লক্ষ্য, আগামী দিনে চন্দননগরের মানুষকে আরও উন্নত পুর পরিসেবা দেওয়ার।

নির্বাচনের এই ফলাফল প্রসঙ্গে বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তুষার মজুমদার বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হলে আমরা চন্দননগরে ভালো ফল করতাম। কিন্তু, ভোটের নামে চন্দননগরে প্রহসন হয়েছে। আগামী পুরসভা নির্বাচনে যাতে এই ঘটনা না ঘটে তার প্রতিবাদে এদিন আমরা জেলা শাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছি।

বিজেপির বিক্ষোভ প্রসঙ্গে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া জল খেয়ে, রাজ্য সরকারের দেওয়া বিদ্যুতের খুঁটির নিচে দাঁড়িয়ে ওরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। ওরা ওই কাজটাই ভালো পারে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *