এক ফোনেই মিলছে ইমিউনিটি বর্দ্ধক চা, লকডাউনে অভাবী সমীরের পেশায় এখন নতুন দিশা বালুরঘাটে

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৮ মে: অভাবকে সঙ্গে নিয়ে ইমিউনিটি বর্ধক চা বিক্রি করে লকডাউনের বাজারে রুজিরোজগারের এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে বালুরঘাটের সমীর। ফোন করার এক মুহুর্তেই শহরের যে কোনও প্রান্তে পৌছে যাচ্ছে করোনা বর্দ্ধক সেই চা। সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত মাত্র তিন টাকার বিনিময়েই বালুরঘাট শহরের যে কোনও প্রান্তে মিলছে সেই পরিষেবা। আদা, লবণ,লেবু গোলমরিচ সহ একাধিক উপকরণে তৈরি সমীরের সেই চা মন কেড়েছে শহরবাসীর। কোভিড বিধি মানতে যখন দোকানপাট বন্ধের পাশাপাশি যে কোনও ভিড় এড়াবার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন। তখন বাসিন্দাদের এক ফোনেই চা নিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছে সমীর।

বালুরঘাট শহরের নামাবঙ্গীর বাসিন্দা সমীর সাহা। স্ত্রী সহ দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে ছোট্ট সংসার তার। অভাবী পরিবারে একমাত্র রোজগেরে তিনিই রয়েছেন। ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা ও সংসার চালাতে হিমসিম খেয়ে একসময় ভিন রাজ্যে কাজ করলেও, করোনার লকডাউনের বেশকিছুদিন আগেই বাড়ি ফিরে এসেছেন তিনি। লকডাউনের জেরে যখন অনেকেই বদলেছেন পেশা, করোনাকালে তখন রুজিরোজগারের দিশা দেখাতে অভিনব চা বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। করোনার সঙ্গে লড়াই করতে যখন চিকিৎসকরা বার বার ইমিউনিটি বাড়াবার কথা বলছেন, তাকেই হাতিয়ার করে রোজগারে নেমেছেন বালুরঘাটের সমীর। ইমিউনিটি বর্ধক চা প্রতি কাপ মাত্র তিন টাকা দামে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। তার উদ্যোগে বাড়িতে বসে ফোন করেই এই চা নিতে পারছেন শহরবাসী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করে সাইকেল চালিয়ে শহরজুড়ে চা বিক্রি করেছেন তিনি। অফিস, বাজার সহ একাধিক স্থানে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তার মোবাইল ফোন নম্বরও। যে ফোন বাজতেই চা প্রেমীদের উদ্দেশ্যে সাইকেলে চেপে ছুটছেন সমীর।

চা বিক্রেতা সমীর সাহা জানিয়েছেন, সাইকেলে চেপে বিভিন্ন মশলাপাতি নিয়ে সকাল সকাল বেড়িয়ে পড়েন। ফোন আসলে বাড়ি থেকে অফিস সবখানেই চা পৌঁছে দেন তিনি। তিনশো থেকে চারশো করোনা বর্দ্ধক চা প্রতিদিনই বিক্রি করছেন। লাভ বেশি না হলেও
লকডাউনের বাজারে এমন রোজগার কিছুটা হলেও দিশা দেখাচ্ছে তার অভাবী পরিবারকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *