আমাদের ভারত, ২৩ আগস্ট: তোলাবাজি করে খেতে হলে তৃণমূল কংগ্রেস করুন। কড়া ভাষায় বার্তা দিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। রাজ্যে পালা বদলের পর বিজেপি সরকার ১০০ দিন পার করে ফেলেছে। ক্ষমতায় এলে তোলাবাজি, কাটমানি, দুর্নীতি কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, এই বার্তা দিয়ে ভোট প্রচার করেছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। সরকার গঠনের পরেও দুর্নীতি ইস্যুতে জিরো টলারেন্সের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু তারপরেও সম্পূর্ণভাবে তোলাবাজি বা দুর্নীতি আটকানো সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় নেতা কর্মীরা দুর্নীতি ও তোলাবাজিতে জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিজেপিতে থাকতে হলে কোনভাবেই তোলাবাজি ও দুর্নীতি করা যাবে না, এমনই বার্তা বার বার দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্বরা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই প্রসঙ্গে বেশ কয়েকবার বার্তা দিয়েছেন। দুর্নীতি সহ অন্যান্য অভিযোগ এলে রেয়াত করা হবে না। তাই বিজেপিতে থাকতে হলে তোলাবাজি, দুর্নীতি করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য।
এবার তাঁর সুরেই কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, বিজেপিতে থেকে তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, প্রয়োজনে কঠোর থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজেপিতে তোলাবাজি করে খাবার ট্র্যাডিশন নেই। সেটা হলে বিজেপি ছেড়ে অন্য কোনো দল করুন। তোলাবাজি করে খেতে হলে তৃণমূল করুন।
বিজেপির ঐতিহ্য মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এই দল করে বা এই দলে থেকে রাজনীতি করে খাওয়ার বা উপার্জনের কোনো প্রথা নেই। কর্মীদের ত্যাগের মনোভাব নিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় দল ছাড়াই শ্রেয়। শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যেও বার্তা দিয়েছেন তিনি। বিজেপির কোনো নেতা দাদাগিরি করলে, ভয় দেখালে, সরাসরি পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করতে বলেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। তাঁর কথায়, নেতা যত বড়ই হোক না কেন, দল তার পাশে দাঁড়াবে না।
নীচু তলার বিজেপি কর্মী হিসেবে তৃণমূলের বহু কর্মী নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন বলেও দাবি করছেন বিজেপি নেতৃত্ব। এইসব নব্য বিজেপি তোলাবাজি দুর্নীতিতে জড়িয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি তাঁদের। দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে রাজ্য বিজেপি দলের তরফে ২৫০ জনকে
সম্প্রতি সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।

