(ছবি- প্রাক্তন উপ পৌরপ্রধান)
সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৬ মার্চ: আজ দুপুর থেকে শুরু হয় বনগাঁ পুরসভার জয়ী তৃণমূল প্রার্থীদের শপথ গ্রহণ কর্মসূচি। আর সেই অনুষ্ঠানে এসে ছয়বারের কাউন্সিলর ও তিনবারের উপ পৌরপ্রধান বলেন, টিকিট আমাদের দিয়েছিল জয়ী হয়ে প্রমাণ করে দিয়েছি, যে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতাটা
কতখানি। এই দলের কোনো দাম নেয়, পয়সা দিলেই চেয়ারম্যান ও ভায়েস চেয়ারম্যান হওয়া যায়। আমি মানুষের ভোটে জিতেছি, এতো পয়সা আমি দিতে পারিনি তাই আমি কোনো পদ পায়নি। এতে আক্ষেপ করি না।
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ পৌরসভার ২২ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৯ টি ওয়ার্ডে জয়লাভ করেছে তৃণমূল। একটি বিজেপির, একটি কংগ্রেসের আর একটি নির্দলের। ইতি মধ্যেই তৃণমূলের বনগাঁ জেলা সাংগঠনিক সভাপতির রদ বদল হয়েছে। আলোরানী সরকারকে সরিয়ে নতুন সভাপতি করা হয়েছে এবারের জয়ী প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক গোপাল শেঠকে। ফের বনগাঁর চেয়ারম্যান করা হল গোপালকে। ভায়েস চেয়ারম্যান করা হয়েছে প্রাক্তন পৌর প্রধান জ্যোস্না আঢ্যকে। অথচ পরপর ৬ বারের কাউন্সিলর ও তিন বারের উপ-প্রধান কৃষ্ণা রায়কে কোনো পদই দেয়নি দল। এই ক্ষোভে কৃষ্ণা রায় বলেন, টাকা দিলেই এখানে চেয়ারম্যান ও ভায়েস চেয়ারম্যান হওয়া যায়। আমার পয়সা নেই তাই আমি দলে কোনো জায়গা পাইনি। দল আমাকে তিনটে ওয়ার্ডের টিকিট দিয়েছিল আমি তিনটে ওয়ার্ডের প্রার্থীদের জিতিয়ে দলে উপহার দিয়েছি। সেখানে দলের সিদ্ধান্ত না টাকার সিদ্ধান্ত মানুষই বলবে।
যদিও এই অনুষ্ঠানে গোপাল শেঠ জানিয়েছেন,
কাউন্সিলরদের মধ্যে কৃষ্ণা রায় আমাদের সকলের কাকিমা। তাই পৌরসভার যে কোনো কাজে কাকিমাকে সামনে রেখে আমরা সকলে কাজ করবো। বনগাঁর মানুষের একাংশের অভিযোগ, বার বার কৃষ্ণা রায়ের নাম উঠে আসে চেয়ারম্যানের পদে, অথচ শেষ পর্যন্ত তাঁর জায়গা হয় ভায়েস চেয়ারম্যানে। একজন সৎ অভিজ্ঞ কাউন্সিলরের কাছে যথেষ্ট সন্মানজনক না বলে মত সাধারণ মানুষের।

