সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৬ মার্চ: ঝালদায় কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুর মৃত্যুর ঘটনায় ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটির সিট গঠন করল জেলা পুলিশ। ওই তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (অপারেশন) চিন্ময় মিত্তল, একজন প্রভেশনারী আইপিএস অফিসার, জেলা পুলিশের ডিএসপি পদ মর্যাদার তিনজন আধিকারিক ও বলরামপুরের সিআই পার্থ সিং। এই ঘটনার তদন্ত করবে ডিএসপি হেডকোয়ার্টার অরুণাভ দাস। গোটা বিষয়টি মনিটারিং হবে জেলা পুলিশ থেকে। একইসঙ্গে গুলিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তের ক্ষেত্রে সিআইডির সাহায্য নিচ্ছে জেলা পুলিশ। আজ ঝালদায় নিহত তপন কান্দুর বাড়িতে যায়
সিআইডি’র দল। তাঁরা সদ্য স্বামী হারা পূর্ণিমা কান্দুর সঙ্গে দীপক কান্দুর পরিবারের সম্পর্ক নিয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আইসির সঙ্গে ফোনে কথোপকথন ফাঁস করে দেওয়া মিঠুন কান্দুর সঙ্গে একই বিষয়ে কথা বলেন। মিঠুন জানান, “ভাইরাল হওয়া কথোপকথন সম্পর্কে জানতে চায়নি সিআইডির দল।” তদন্তের স্বার্থ দেখিয়ে কথা বলতে চায়নি সিআইডি।

ধৃতের বিরুদ্ধে খুন, সংঘ বদ্ধভাবে খুন ও অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানান ধৃত দীপকের পক্ষে জেলা আইনি সহায়তা কেন্দ্রের আইনজীবী তন্ময় চক্রবর্তী। আজ তাকে জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিন পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
যদিও এই ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল ঘটনার পরের দিন রাতে একটি এফআইআরকে নিয়ে। আজ জেলা আদলতে গ্রেফতার হওয়া নিহত তপন কান্দুর ভাইপো দীপক কান্দুকে পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে দেখা যায় ঝালদা থানায় ঘটনার পরের দিন রাতে ৯ টা ৫ নাগাদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ঝালদা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুভাষ গরাই পেশায় ঝালদা পৌরসভার পৌরকর্মী একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগে তিনি অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীদের নামে খুনের অভিযোগ করেন। তবে এই এফআইআরএ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ নেই। তবে এই ঘটনায় একাধিক অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতী ছিল বলে অভিযোগ পত্রে লেখেন ওই পুরকর্মী সুভাষ। ঘটনার পরের দিন রাতেই একই দিনে নিহত তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দু লিখিত অভিযোগ করেন পুলিশ সুপারের কাছে। তাতে তিনি সরাসরি ঝালদা থানার আইসি সঞ্জীব ঘোষের বিরূদ্ধে খুনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ করেন। এছাড়াও আরো ৫ জনের নামে খুনের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ জানিয়েছিলেন এবং এই অভিযোগপত্রটিকে এফআইআর হিসেবে গৃহীত করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। যদিও যাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে সেই ভাইপো দীপক কান্দুর নামও রয়েছে অভিযোগ পত্রে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে পরের দিন রাতেই নিহত কংগ্রেস কাউন্সিলরের স্ত্রী লিখিত অভিযোগ করলেও তার আভিযোগপত্রটি কেন গৃহীত হলোনা? এই তদন্ত মানতে রাজী নন নিহত কংগ্রেস কাউন্সিলরের স্ত্রী পূর্ণিমা দেবী। তাঁর অভিযোগ এই আইসিকে এখান থেকে সরাতে হবে।

জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নেপাল মাহাতো বলেন, “খুব চালাকি করে পুলিশ বাড়ির লোকের লিখিত অভিযোগ না নিয়ে বাইরের একজনের কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে মামলা শুরু করে দিল। পাশপাশি আরও মারাত্মক অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, অভিযোগ পত্রটি আগেই লিখিয়ে নিয়েছিল পুলিশ। সুভাষ গড়াই ভয়ে সন্ত্রস্ত হয়ে রয়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের ঝালদা শহর সভাপতি দেবাশীষ সেন বলেন, “এই ঘটনার সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। এটা ওদের পরিবারিক বিবাদের ঘটনা থাকতে পারে। এটার সাথে ঝালদা পৌর বোর্ডে গঠনের কোনো সম্পর্ক নেই।”
যদিও ধৃত দীপক কান্দুর মা বাবি কান্দু বলেন, “আমাদের পরিবারের সাথে সেরকম কোনো ঝামেলা ছিল না। আমাদের ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে।”

