পানিহাটিতে কাউন্সিলর খুনের ঘটনায় ধৃত অমিত পণ্ডিতকে নিয়ে আগারপাড়ায় ঘটনার পুনর্নির্মাণের করা হল

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১৬ মার্চ: পানিহাটি পৌরসভার কাউন্সিলর অনুপম দত্ত খুনের ঘটনার রহস্য দ্রুত উন্মোচন করতে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছে পুলিশ প্রশাসন। বুধবার দুপুরে এই খুনের ঘটনায় ধৃত অভিযুক্ত অমিত পণ্ডিত ওরফে শম্ভু পণ্ডিতকে আগারপাড়াতে ফের নিয়ে যাওয়া হয় সেদিনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার জন্য। এদিন তাকে সেই জলা জমিতেও নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে সে অনুপম দত্তকে খুন করার পর লুকিয়েছিল। আর সেখান থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় অভিযুক্ত অমিত পণ্ডিতকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সেদিন ওই জলা জঙ্গল থেকে একটি অগ্নেয়াস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন ও একটি টিকিট উদ্ধার হয়েছিল। সেই জায়গায় নিয়ে গিয়ে আবার তল্লাশি চালায় খড়দা থানার পুলিশ। কারণ এই অমিত পণ্ডিতকে বার বার জেরা করে পুলিশি তদন্তে উঠে আসছিল যে এই খুনের ঘটনায় আরো একটি বন্দুক ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু সেটা কোথাও থেকে উদ্ধার হচ্ছিল না। তার জন্য আজ ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ ধৃত শুটার অমিত পন্ডিতকে নিয়ে আগরপাড়া খোয়ার রোডের হোগলা পাতার জঙ্গলে তল্লাশি চালানো জন্য নিয়ে যায়। এরপর অমিতকে নিয়ে তল্লাশি চালানোর পরে কিছু না মেলায় থানায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরেও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গোটা জঙ্গল আবার তন্নতন্ন করে চিরুনি তল্লাশি চালায়। সেই সঙ্গে অমিত যে জামা পরে ওইদিন গুলি করেছিল সেই জামা এবং তার পাশাপাশি অস্ত্র ও সিম কার্ড ছাড়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার হয়েছিল। সেই সিম কার্ডটাও খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে, কারণ ওই সিম কার্ডটিতে এই ঘটনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে সেই কারণেই চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

অপর দিকে এই গোটা ঘটনায় এখনো পর্যন্ত অমিত পণ্ডিত ছাড়াও বাপি পণ্ডিত নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকেও বার বার জেরা করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে,
সঞ্জীব পন্ডিত ওরফে বাপি একটি আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছিল মুঙ্গের থেকে। ১২০০০ টাকার বিনিময় একটি ওয়ান শাটার বন্দুক কিনেছিল। সেই অস্ত্র শম্ভু পণ্ডিতকে দিয়েছিল সেই পিস্তলের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।

এদিন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা বলেন, “তদন্ত অনেকটাই সফল ভাবে হচ্ছে। তবে অনেক তথ্য আসা বাকি আছে। আরো অনেকে গ্রেপ্তার হবে বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত উদ্ধার একটি পিস্তল, আরো পিস্তল আছে। আসামিদের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে।”

এদিন খুনের পেছনে টাকার লেনদেন হয়েছে তা স্বীকার করেন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট, তবে টাকার অঙ্ক কত, তা নিয়ে কিছু বলতে চাননি। এদিন তিনি বলেন, “রাজনীতি সংক্রান্ত কোনো দিক আছে কি না সেটা তদন্ত করা হচ্ছে। ২০২০ তে কিছু ঘটনা ঘটেছিল যেগুলোর যোগ এই খুনের সাথে রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অস্ত্রগুলো কোথা থেকে আনা হচ্ছিল সেটা বের করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে বাপি পণ্ডিত এই খুনের সাথে সরাসরি জড়িত আছে বলেই আমাদের তদন্তে উঠে আসছে।”

এদিন ধৃত বাপি পণ্ডিতকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। সেখানে পানিহাটি পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনুপম দত্তের খুনের ঘটনায় ধৃত সঞ্জীব পন্ডিত। মহামান্য আদালত তাকে ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। ৩০২,১২০বি, ২৫/২৭ অস্ত্র আইন এই ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *