আমাদের ভারত, ২ আগস্ট: তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তসলিমা নাসরিন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কট্টর হিন্দুত্ববাদী বলেছেন। তার সেই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, হিন্দুত্ব সম্পর্কে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জানা নেই। একই সঙ্গে বীরভূমের সাধারণ দিনমজুর থেকে রাতারাতি বিরাট সাম্রাজ্য গড়ে তোলা টুলু মন্ডলের প্রসঙ্গে টেনে প্রাক্তন রাজ্য প্রশাসনকে তীব্র আক্রমণ শানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বীরভূমে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থকে হিমশৈলের চূড়া মাত্র বলে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে উগ্রপন্থী যোগ, খারিজি মাদ্রাসার বিরুদ্ধেও সরব হন।
তসলিমা নাসরিন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, উনি কাদের ডাকে এসেছেন? মুসলিম মৌলবাদের কথা বলেন। আর তাকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সম্বর্ধনা দিলেন। তিনি তো কট্টর হিন্দুত্ববাদী। তিনি তো হিন্দু রাষ্ট্র চান। তিনি শুধু হিন্দুত্ব চান। তাহলে তফাৎটা কোথায় রইল? এই মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, কল্যাণবাবু হিন্দুত্ব বোঝেন না। হিন্দুত্ব কখনো কট্টর হতে পারে না। আমি যদি কট্টর হিন্দু হই তবে আমাকে গীতা ও বেদ অক্ষরে অক্ষরে বিশ্বাস করতে হবে। আর আমার গীতা শেখায় বিভিন্ন নদী যেমন আলাদা পথে গিয়ে এক সাগরে মেশে তেমনি বিভিন্ন পথ ঈশ্বরেই উপনীত হয়। ওনার জানার অসুবিধা থাকলে আমার কাছে এক ঘন্টার ক্লাস নিতে পারেন। হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে আইডিয়া দিয়ে দেব।
অন্যদিকে বীরভূমে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা উদ্ধার প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, এতদিন আমরা জানতাম বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা খুব খারাপ। সরকারের ভান্ডারে টাকা নেই, কিন্তু বীরভূম আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। একজন ডেইলি লেবারের কাজ দিয়ে জীবন শুরু করা নাজিমউদ্দিন ওরফে টুলু মন্ডল ও তার সঙ্গীদের কাছ থেকে ২৫০ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। এটাতো হিমশৈলের চূড়ামাত্র। একজন এজেন্টের এত রোজগার হলে মালিকরা কত লুটেছে। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা চুরি করা হয়েছে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, টুলু হোক আর ভুলু হোক, সরকার তাদের ব্যবস্থা করবে। শাহজাহান তো এখন ভারতে আসতে পারছে না। বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, বক দেখছো বাবা, তুমি ফাঁদ দেখনি। এবার ফাঁদও দেখবে।
জঙ্গি হামিদ মন্ডলের গ্রেফতারি এবং তেহরিক তালিবান হিন্দুস্তান নামক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ প্রসঙ্গে সুকান্ত বাবু জানান, পশ্চিমবঙ্গকে বছরের পর বছর উগ্রপন্থীরা তাদের কাজের লঞ্চিং প্যাড হিসেবে ব্যবহার করেছে। দিল্লির দাঙ্গা সহ বিভিন্ন উগ্রপন্থী হানার ক্ষেত্রে এ রাজ্য থেকে ভোটার কার্ড ও প্রয়োজনীয় নথি যোগাড়ের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
পূর্ববর্তী বাম এবং তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগের সরকারগুলি এ বিষয়ে আপস ও তোষণের নীতি নিয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পর্যন্ত প্রশাসনিক ইনপুট জেনে সীমান্তবর্তী অনুমোদিনহীন খারিজি মাদ্রাসা গুলিকে সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘড় বলেছিলেন। কিন্তু পার্টির চাপে তাকে পিছু হঠতে হয়েছিল। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সুরক্ষার প্রশ্নে বর্তমান সরকার যে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার।

