আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ২২ আগস্ট: ‘উপাচার্যের পাগলামি ছাড়িয়ে দেব’। সংবাদমাধ্যমের কাছে এভাবেই উপাচার্যের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়লেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন শীঘ্রই বিশ্বভারতী চত্বরে তৃণমূল রাজনৈতিক সভা করবে।
রবিবার ছিল রাখিবন্ধন উৎসব। রাখিবন্ধন উৎসব মানেই রবীন্দ্রনাথের নাম চলে আসে। কারণ ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধ করার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখি বন্ধন উৎসব পালন করেছিলেন। তিনি কলকাতা, ঢাকা ও সিলেট থেকে হাজার হাজার হিন্দু ও মুসলিম ভাই ও বোনকে আহ্বান করেছিলেন একতার প্রতীক হিসাবে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করার জন্য। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এবার বোলপুরে সেই রাখিবন্ধন উৎসব পালন করা হয়। সকালে বিশ্বভারতী চত্বরে রাস্তায় শোভাযাত্রার পাশাপাশি পথচলতি মানুষের হাতে রাখি পরিয়ে দেওয়া হয়। রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বিশ্বভারতী চত্বরে অনুষ্ঠান নিয়ে গুঞ্জন উঠতে শুরু করেছে। যদিও তাতে জল ঢেলে দিয়ে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “ওই রাস্তা পূর্ত ও সড়ক দফতরের। ফলে এতে বিশ্বভারতীর কিছু বলার নেই”।

রাখিবন্ধন অনুষ্ঠান শেষে বোলপুর দলীয় কার্যালয়ে অনুব্রত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ফের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তিনি বলেন, “বিশ্বভারতী রবীন্দ্রনাথকে মানে না। তা না হলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী বলতে পারেন রবীন্দ্রনাথ কালো ছিল বলে তার মা তাকে কোলে নিত না। মূর্খ না হলে একথা বলতে পারেন। তার সঙ্গে আরও মূর্খ উপাচার্য বসে তা শুনছেন। এক নম্বরের পাগল। উনি রবীন্দ্রনাথকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশ্বভারতীতে দালালদের ঠেক করার চেষ্টা করছে। বিশ্বভারতীর শিক্ষার মান নষ্ট করছে। রবীন্দ্রনাথের আদর্শকে নষ্ট করছে। তা না হলে বলে রবীন্দ্রনাথ বহিরাগত। কিন্তু এটা আমরা হতে দেব না। কারণ আমরা রবীন্দ্রনাথকে ভালোবাসি, তাঁর আদর্শকে মেনে চলি, বিশ্বভারতীকে ভালোবাসি। উনি বিশ্ব ভারতীতে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। রাজনীতি করা কাকে বলে আমরা দেখিয়ে দেব”।
বিশ্বভারতী চত্বরে রাখি বন্ধন উৎসব নিয়ে অনুব্রত বলেন, “ওটা বিশ্বভারতী চত্বরে হয়নি। ওটা পূর্ত ও সড়ক দফতরের রাস্তা। এরপরে রাজনৈতিক অনুষ্ঠান বিশ্বভারতীর ভিতরে হবে। উপাচার্যের বাড়ির সামনে হতে পারে, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে হতে পারে। যে কোনও জায়গায় হতে পারে। কারণ উপাচার্য তো পথ দেখিয়েছেন। উনার পাগলামি ছাড়িয়ে দেব। একবারে মস্তবড় পাগলামি ছাড়িয়ে দেব”।

