চাকরির জন্য নামের তালিকা পার্থর কাছে পাঠিয়েছিলাম, বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের

আমাদের ভারত,‌ ২৫ জুলাই: তল্লাশি চালিয়ে ইডি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে ময়নাগুড়ি প্রাক্তন বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারীর লেটার প্যাডে গ্রুপ ডি চাকরি প্রার্থীদের তালিকা পেয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের নামের তালিকা পার্থর কাছে পাঠানোর কথা সংবাদ মাধ্যমে অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন এই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। একইসঙ্গে আক্ষেপ করে তিনি বলেছেন, নাম পাঠানো সত্বেও একজনেরও চাকরি হয়নি।

এস এস সি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সরাসরি নাম জড়িয়েছে রাজ্যে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও বর্তমান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর। ইতিমধ্যেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে ইডি। পরেশ অধিকারীকে সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এবার এই দুর্নীতি কান্ডের নাম জড়াল ময়নাগুড়ির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা ময়নাগুড়ি পৌরসভার চেয়ারম্যান অনন্তদেব অধিকারীর।

পার্থর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে জলপাইগুড়ি জেলার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারীর সুপারিশ করার লেটারহেডে চাকরিপ্রার্থীর নামের তালিকা পেয়েছে ইডি।

জানা গেছে ২০১৬ সালের এসএসসি গ্রুপ ডি চাকরিপ্রার্থীর নামের তালিকা তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পাঠিয়েছিলেন অনন্তদেব অধিকারী। তিনি মোট ৪৮ জনের নাম রোল নম্বর পাঠিয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী তথা তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর নথি উদ্ধার করেছে যার মধ্যে রয়েছে ময়নাগুড়ির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের সুপারিশের চিঠিও।

বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে অনন্তদেব অধিকারী বলেন, “২০১৬ সালে এসএসসি গ্রুপ ডি নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেলার সকল বিধায়কদের নির্দেশ দিয়েছিলেন পাঁচটা করে নামের তালিকা পাঠাতে। পাঁচ জনের নামের যে তালিকা চাওয়া হয়েছিল সেই নির্দেশ অনুযায়ী আমি আমার লেটারহেডে ৫ জনের নামের তালিকা পাঠিয়েছিলাম। তাদের একজনেরও চাকরি হয়নি।”

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আপার প্রাইমারির ক্ষেত্রে যে ৪৮জন চাকরিপ্রার্থীর রোল নম্বরের কথা উঠে আসছে, একেবারেই তা ভিত্তিহীন। আমার স্বাক্ষর মেলালে বোঝা যাবে। আমি আমার বিধায়ক প্যাডে নিজে হাতে লিখে নিজেই সব চিঠি দিতাম।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *