Basirhat, ‘ওকে মেরে ফেলেছি,’ প্রেমিকের পরিবারকে ফোন! পরদিনই বসিরহাটে উদ্ধার মামি ও ভাগ্নের দেহ

আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৫ জুলাই: ভাগ্নের সঙ্গে পরকীয়া! এই ‘অবৈধ’ সম্পর্কের টানাপড়েন দেখল এক মর্মান্তিক পরিণতি। বাড়ি থেকে পালিয়ে যে ভাড়াবাড়িতে সংসার পেতেছিলেন, এক মাসের মাথায় সেখানেই উদ্ধার হল দু’জনের দেহ। শনিবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। একদিকে ভাড়াবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বছর ৩২-এর ভাগ্নে দেবাশিস মণ্ডলের ঝুলন্ত দেহ, অন্যদিকে তার কিছু দূরেই রেললাইনের উপর থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩৩ বছর বয়সি মামি রুনু মণ্ডলের ক্ষতবিক্ষত শরীর। পরিবারের অভিযোগ, ভাগ্নেকে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন মামি।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দেবাশিস মণ্ডল ও রুনু মণ্ডলের আসল বাড়ি বসিরহাটের ট্যাটরা এলাকায়। প্রায় ১৪ বছর আগে রুনুর বিয়ে হয়েছিল বনগাঁয়। কিন্তু বছরখানেক ধরে দেবাশিসের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। সম্পর্কে মামি- ভাগ্নে হওয়ায় এই পরকীয়ার কথা জানাজানি হতেই দুই পরিবারে তীব্র অশান্তি শুরু হয়। লোকলজ্জা ও পারিবারিক বিবাদের জেরে মাসখানেক আগে দু’জনে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এরপর বসিরহাটের সাঁইপালা ময়লাখোলা এলাকার একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে লিভ-ইন করতে শুরু করেন তাঁরা। কিন্তু সেই ভাড়াবাড়ির দিনগুলোও সুখের হয়নি। দেবাশিসের পরিবারের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে ওই যুবক তীব্র মানসিক অশান্তিতে ভুগছিলেন এবং নিজের ভুল বুঝতে পেরে বাবার কাছে ফোন করে বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন। সম্ভবত বাড়ি ফেরার এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেননি রুনু। শুক্রবার রাতে আচমকাই দেবাশিসের বাবার ফোনে একটি কল আসে। ফোনের ওপার থেকে রুনু মণ্ডল ঠান্ডা গলায় জানান, “ওকে মেরে ফেলেছি, এবার আমিও আত্মহত্যা করব।” এই কথা শুনেই আঁতকে ওঠেন দেবাশিসের বাবা। এরপর থেকেই দু’জনের ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। রাতভর উৎকণ্ঠার পর সকাল হতেই ছেলের খোঁজে বসিরহাটে পৌঁছায় পরিবার।

শনিবার সকালে বসিরহাট স্টেশন সংলগ্ন অনন্তপুর এলাকার রেললাইনের ধার থেকে রুনু মণ্ডলের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ময়লাখোলার সেই ভাড়াবাড়ির দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে দেবাশিসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

দেবাশিসের পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, রুনুই প্রথমে দেবাশিসকে খুন করে এবং তারপর নিজে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন। তবে এই বিষয়ে রুনুর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এটি সত্যিই খুনের পর আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে দুটি দেহই ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে বসিরহাট থানার পুলিশ। ফরেন্সিক রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *