“সংস্কারমুখী বলার মতো কোনও রসদ পেলাম না” — গৌতম ভট্টাচার্য

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, কলকাতা, ১ ফেব্রুয়ারি: কেন্দ্রীয় বাজেটে আশার আলো দেখতে পেলেন না প্রেসিডেন্সির অর্থনীতির প্রাক্তন কৃতী ছাত্র তথা প্রাক্তন চিফ পোস্ট মাস্টার জেনারেল গৌতম ভট্টাচার্য।

মঙ্গলবার তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, “গত কয়েক বছরে ভরতে যে জিডিপি বৃদ্ধির হার থিতিয়ে গেল তার একটা প্রধান কারণ ‘গ্রস ডোমেস্টিক ক্যাপিটাল ফরমেশন’এর হার কমে যাওয়া। এই হার ২০১১ সালে ছিল জিডিপি-র ৩৫.৪% এবং সেটাই কমে ২০২০ সালে হলো ২৮.৪২%— ক্যাপিটাল ফরমেশনের হার কমা মানে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মূল বুনিয়াদটা কমজোড় হয়ে যাওয়া। এখন প্রশ্ন কেনো এরকম হচ্ছে?

গত বছর দশ ধরে দেখা যাচ্ছে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলো বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে গ্রাহকের একাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠাচ্ছেন। এতে সমাজের দুর্বল শ্রেণির মানুষের কিছুটা সুরাহা হচ্ছে এবং বেসিক ভোগ্যপণ্যের কিছু চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু অন্যদিকে সরকারের হাতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের কাজে খরচা করার মতো টাকা কমে যাচ্ছে। এই সমস্যার একমাত্র সমাধান হতে পারতো যদি প্রাইভেট ক্যাপিটালকে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে আকর্ষন করা যেতো। তার জন্য দরকার অর্থনৈতিক সংস্কারের ভাবনা। মনে হয়েছিল ভারত সরকারের বাজেটে সেই প্রসঙ্গে কিছু দিশা পাওয়া যাবে। কিন্তু বাজেটে সেরকম কিছু দিশা দেখতে না পেয়ে বেশ হতাশ লাগলো।

১৯৯০ এর দশকের প্রাথমিক সংস্কারের পরে যখন বাজপেয়ী সরকার পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কারের কাজে হাত দেন তখন প্রত্যাশা ছিল ইন্ফ্রাস্ট্রাকচারাল প্রকল্পে -বিদ্যুৎ, পোর্ট, হাইওয়ে, রেল, এয়ারপোর্টে প্রাইভেট ক্যাপিটাল এর বিনিয়োগ বাড়বে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূর্ণ হয় নি। ওদিকে ভারতকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব করার স্বপ্নও রূপ পেলো না। অথচ এই দুটো ক্ষেত্রই খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো কোটিকোটি আনস্কিল্ড তরুণ-তরুণীকে কাজ দেওয়ার জন্য। এই দিশায় এগনোর জন্য যেই সংস্কারগুলোর দরকার বাজেটে তার কোন ইঙ্গিত পেলাম না।

জমি অধিগ্রহণ বা লেবার ল’ প্রসঙ্গে পলিটিক্যাল কনসেনসাসে এখনো পৌঁছতে পারিনি। কৃষি বিলে যে সংস্কারের কথা ভাবা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে আন্দোলন আবারও প্রমাণ করলো খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেও আমরা কনসেনসাসে পৌঁছতে ব্যর্থ। তাহলে উন্নয়ন হবেটা কোথা থেকে?

রাজ্যস্তরেও অনেক সংস্কারের দরকার। মিউনিসিপালিটিগুলো টাকার অভাবে ধুঁকছে। শহরাঞ্চলে অল্প আয়ের মানুষের জন্য গৃহপ্রকল্পে, বস্তি উন্নয়নে, শহরের রাস্তাঘাট, আলো, যানবাহন, পানীয় জল, জলাশয় এবং পার্কের উন্নয়নে প্রাইভেট ক্যাপিটালকে আকর্ষন করতে রাজ্যস্তরে অনেক অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজন। যদি কেন্দ্রীয় বাজেটে সেই অভিমুখে কিছু দিশা থাকতো তবে বাজেটকে সংস্কারমুখী বলতে পারতাম। কিন্তু সেটা বলতে পারার মতো কোনও রসদ পেলাম না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *