“কিছুটা ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পেরেছে সরকার” — ডঃ বিশ্বজিৎ নাগ

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, কলকাতা, ১ ফেব্রুয়ারি: “অতিমারি-পরবর্তী সময়ে আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে বাজেটে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। তবে, কিছুটা ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পেরেছে সরকার।” এরকমই মনে করেন নয়াদিল্লির ইন্ডিয়ান ইন্সটিট্যুট অফ ফরেন ট্রেডের অধ্যাপক ডঃ বিশ্বজিৎ নাগ।

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, “অতিমারির আগে দেশের অর্থনীতির গতি মন্থর হয়ে গিয়েছিল। এর প্রভাব পড়েছিল আয়ব্যয়ের ওপর। রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে যায়। অর্থনীতির ছন্দ ধীরে ধীরে নিজস্ব ছন্দে ফিরে আসবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। দেনা অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় আয়বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে রাজস্বঘাটতি কমাতে হবে। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে সরকারকে বাজেট তৈরি করতে হয়েছে। এদিক থেকে মনে হয় কিছুটা ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পেরেছে সরকার।

কেন্দ্রের আগের বাজেট ছিল মূলত আর্থিক সহায়তার। এখন অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ওপর (গ্রোথ স্টিমুলেটিং) জোর দেওয়া হয়েছে। কর্পোরেট ট্যাক্সের হার কমানো হয়েছে। ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণের (ইমার্জেন্সি ক্রেডিট লোন গ্যারান্টি স্কিম) তহবিলের পরিমাণ বেড়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বাজেটে। এতে একদিকে আমদানি কমানো যাবে। অন্যদিকে, দেশীয় উৎপাদকদের সহায়তা হবে। ই কানেকশন ও ডিজিটাল কারেন্সির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে ‘পেমেন্ট সেটলমেন্ট’-এর মত লেনদেনে বাড়তি সুবিধা হবে। বেশ কিছু খরচ কমে যাবে।

বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দের ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধির চেষ্টা হচ্ছে। এ সবের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। সার্বিকভাবে লোকের চাহিদা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রবৃদ্ধির অন্যতম শর্ত হল এই চাহিদাবৃদ্ধি। তবে, গরিব, বিশেষত শহুরে গরিবদের কতটা ভালো হবে, তা বোঝা যাচ্ছে না। কারণ, এই শ্রেণির জন্য কোনও প্রত্যক্ষ প্রকল্পের ঘোষণা হয়নি।

বহু মানুষ ভেবেছিলেন অতিরিক্ত করের বোঝা চাপবে। তা না চাপায় আমজনতার একাংশ খুশি। মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্তের অনেকে খুশি। এই বাজেট
অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উপযোগী কিন্তু অতিমারি-পরবর্তী সময়ে আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *