“আমি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নামে কিছু বলিনি, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে রিগিং হয়ে থাকলে তার দায় বর্তমান পুর প্রশাসকেরও”, পালটা দিলেন শংকর আঢ্য

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৬ নভেম্বর: ২০১৫ সালের বনগাঁ পুরসভা ‌নির্বাচনে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে যদি রিগিং হয়ে থাকে, তাহলে তার দায়ভার বনগাঁ পুরসভার বর্তমান পুর প্রশাসকেরও। কারণ তিনি নিজেই ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা।’ শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই অভিযোগ করলেন ‌বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন প্রধান শঙ্কর আঢ্য। এদিন তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘‌বনগাঁয় যারা প্রথম দিন থেকে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাদেরকে দলের কোনও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। এতে দলের ক্ষতি হচ্ছে।’

দিন কয়েক আগে একটি অনুষ্ঠানে ‌বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন প্রধান তথা তৃণমূলের প্রাক্তন শহর সভাপতি শঙ্কর আঢ্য অভিযোগ তোলেন, ‘২০১৫ সালের বনগাঁ পুর নির্বাচনে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে এবং দলের কর্মীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। সেটি বড় রাজনৈতিক ভুল ছিল।’‌ এই মন্তব্যের জেরে তৃণমূলের অভ্যন্তরে জোর আলোচনা শুরু হয়। পাশাপাশি, বিরোধীরাও এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার তৃণমূল নেতাদের পক্ষ থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার যুব তৃণমূলের সভাপতি সন্দীপ দেবনাথ অভিযোগ করেন, ‘‌শঙ্কর আঢ্যর অন্যায় আচরণের কারণে বনগাঁ শহরের মানুষ তৃণমূলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আর সেইজন্য গত বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে তৃণমূলের।’‌ তাঁর দল বিরোধী মন্তব্যের কারণে এবং তাঁর কৃতকর্মের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানান সঞ্জীব দেবনাথ।

এদিনের সাংবাদিক বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করেন শংকর আঢ্য। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমি কোনও দল বিরোধী মন্তব্য করিনি। বক্তব্যে কোথাও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে রিগিং করে জেতানো হয়েছিল বলেও উল্লেখ করিনি। সাংবাদিক বৈঠক করে যারা আমার বিরুদ্ধে নানা অশালীন কথা বলেছেন, তারাই আসলে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। তাদের আচরণেই পরিষ্কার হচ্ছে, দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। যারা ২০১৯ সালে বিজেপিতে গিয়েছিল, তারাই এখন দলের বড় নেতা হয়েছে।’‌ এদিন সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে শঙ্কর আঢ্য দলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানান, যেসব নেতারা নির্বাচনে নিজের বুথে দলকে জেতাতে পারেন না, তাঁদের যেন দলের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দলের জন্য প্রথম দিন থেকে লড়াই করে যাচ্ছেন, তাঁদের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দেওয়া হোক। যারা সাংবাদিক বৈঠক করে দলের নামে কুৎসা ছড়াচ্ছেন, তাদের ব্যাপারে তিনি দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাবেন বলে এদিন জানান শঙ্কর আঢ্য।

এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের বনগাঁ শহরের প্রাক্তন কার্যকরী সভাপতি পঙ্কজ মিত্র অভিযোগ করেন, ‘‌২০১৫ সালের পুরসভা নির্বাচনের পর দলের কয়েকজন কাউন্সিলরের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন তার হিসেব নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *