সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুঁড়া, ৩০ নভেম্বর: বধূ হত্যার দায়ে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বাকুঁড়া আদালতের বিচারপতি। আদালতের এই রায়ে মৃতার বাপের বাড়ির লোক খুশি হতে পারেননি। তারা আশা করেছিলেন স্বামীর ফাঁসি ও শ্বশুর শাশুড়ির যাবজ্জীবন সাজা হবে। তবুও স্বস্তি দিয়েছে বিচারকের রায়। এদিন বাঁকুড়া ৪র্থ কোর্টের সেশন জর্জ এই সাজা ঘোষণা করেন।
সরকারি পক্ষের আইনজীবী অরুণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ২০১৫ সালে বাঁকুড়া সদর থানার ভেদুয়া গ্রামের প্রদীপ রায়ের সঙ্গে বেলিয়াতোড় থানার কুসমা গ্রামের রূপা রায়ের প্রেম ভালবাসা করে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকে পণের দাবিতে রূপার উপর অত্যাচার শুরু করে স্বামী প্রদীপ রায়। তাকে মদত দেয় তার বাবা মাণিক ও মা কাজল রায়। এরপর রূপা তার বাবাকে সমস্ত ঘটনা জানালে রূপার বাবা সাধন রায় ৪০ হাজার টাকা দিয়ে আসেন এবং জামাই ও বেয়াই- বেয়ানকে হাত জোড় করে বলে আসেন তার মেয়েটার উপর যাতে নির্যাতন না হয়। বিয়ের ১ বছর ২ মাসের মধ্যে ২০১৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রূপার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি রূপা (২০) মারা যায়। ২৭ ফেব্রুয়ারি রূপার বাবা সাধন রায় এফআইআর করলে ৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই মামলায় ২২ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণের পর বিচারক ৩০৪ ও ৪৯৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছর ও আরও ২ বছরের সাজা ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে প্রত্যেকের ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানাও ধার্য করেন।
আইনজীবী অরুন চট্টোপাধ্যায় বলেন, এই মামলায় অপর এক অভিযুক্ত উত্তম রায়কে প্রমাণাভাবে বেকসুর খালাস করেছেন বিচারপতি।

