গোপীবল্লভপুরে গাইড বাঁধের উপর দিয়ে চলছে শয়ে শয়ে খালি বালির গাড়ি, নিস্পৃহ স্থানীয় প্রশাসন

অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ২ জুন: সুবর্ণরেখা নদী যে গাইড বাঁধের জন্য সুরক্ষিত আছে গোপীবল্লভপুরের বাজার এলাকা সেই গাইড বাঁধের একটি অংশের উপর দিয়ে শয়ে শয়ে বালি বোঝাই করতে আসা খালি লরি পারাপারের অভিযোগ উঠল বালি খাদান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনায় বালি খাদান কর্তৃপক্ষগুলি যেমন একে অপরের উপর দায় ঝাড়তে ব্যস্ত তেমন নিস্পৃহ স্থানীয় প্রশাসন। পরে বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের নজরে আসায় সংবাদ কর্মীরা প্রশাসনিক স্তরে খোঁজখবর শুরু করতেই প্রশাসনিক তৎপরতায় কিছুক্ষণের মধ্যে গাইড বাঁধের উপর দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়।

জানাগেছে, নিচু এলাকা হওয়ায় সুবর্ণরেখা নদীর বন্যা থেকে গোপীবল্লভপুর বাজার এলাকাকে সুরক্ষিত করতে বহুদিন আগে গোপীবল্লভপুর বাজার লাগোয়া সুবর্ণরেখা নদীর উপর সেচ দফতরের পক্ষ থেকে বোল্ডার দিয়ে গাইড বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এই বাঁধের জন্য সুরক্ষিত থাকে গোপীবল্লভপুরবাসী। অভিযোগ, এহেন একটি স্পর্শকাতর জায়গা দিয়ে এদিন সকাল থেকে হঠাৎ করে শয়ে শয়ে খালি বালির গাড়ি পারাপার করতে থাকে সুবর্ণরেখার বালি খাদানে যাওয়ার জন্য। ঘটনাটি স্থানীয়দের নজরে আসায় স্থানীয়রা সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের জানান।

পরে বিষয়টি নিয়ে গোপীবল্লভপুর ১ নম্বর ব্লকের বিডিও দেবজ্যোতি পাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি ভূমি দফতর এবং পুলিশের দেখার কথা। পরে ভূমি দফতরে যোগাযোগ করা হলে বিএলআরও সাহেব মিটিংয়ের জন্য বাইরে থাকায় দেখা করা যায়নি।ফোনে যোগাযোগের জন্য দফতরের কর্মীদের কাছে বিএলআরও সাহেবের ফোন নাম্বার চাইলে ভূমি দফতরের কোনো কর্মী আধিকারিকের ফোন নাম্বার দিতে রাজি হননি।তবে কিছুক্ষণের মধ্যে তৎপরতার সঙ্গে গাড়িগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় যে কটি বালি খাদান রয়েছে তাদের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অনুপম সেনাপতি নামে এক খাদান মালিক গাইড বাঁধের অংশ দিয়ে গাড়ি পারাপারের বিষয়টি অবৈধ এবং বাঁধের সুরক্ষার জন্য ক্ষতিকর বলে স্বীকার করে জানান। তাঁর খাদানের কোনো গাড়ি এই অংশ দিয়ে যায়নি। এটি অন্য কোনো বালি খাদানের কাজ।

তবে পাশাপাশি থাকা আর একটি খাদান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের এক কর্মী অপরূপ বেরা বলেন, এভাবে গাড়ি চললে বাঁধের ক্ষতি হতে পারে বলে কথাটি মানতে চাইলেন না। তাদের সাফাই কোনো বালি বোঝাই গাড়ি এই অংশ দিয়ে যায়নি। খাদানে বেশি গাড়ি থাকায় এই বাঁধের এই অংশ দিয়ে শুধু খালি গাড়িগুলি পারাপার করা হচ্ছিল। পাশাপাশি আগামী দিনে এরকম কাজ আর করা হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। বেশ কিছুদিন ধরে প্রশাসনিক বৈঠক গুলিতে বালি খাদানের অবৈধ কারবার রুখতে আধিকারিকদের কড়া হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার উপর গোপীবল্লভপুরের বালি কারবারিদের এহেন কাজকর্মে প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের সদিচ্ছা। তাহলে কী রাতের অন্ধকারে এভাবেই কী চলছে বালি কারবার?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *