বাণিজ্য সম্মেলনে কত বিনিয়োগ? ট্যুইট ভিডিওতে অমিত মিত্রকে জবাব তলব রাজ্যপালের

রাজেন রায়, কলকাতা, ১১ নভেম্বর: প্রত্যেক বছর ঘটা করে রাজ্যে হচ্ছে বাণিজ্য সম্মেলন। অথচ রাজ্যে সেই অর্থে নেই কোনও বড় শিল্প। অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় দশভাগের একভাগ ন্যূনতম শ্রম মূল্য পান এখানকার কর্মরত যুবক-যুবতীরা। অনেককে আবার কাজের খোঁজে চলে যেতে হয় বাইরে। আর সেই কারণেই ফের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন জগদীপ ধনকর। তিনি রাজ্য সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্রর কাছে জানতে চেয়েছন, কোন কোন সংস্থা এই সম্মেলনের মাধ্যমে রাজ্যে বিনিয়োগ করেছে? পাশাপাশি তাঁর প্রশ্ন, কত লোকেরই বা কর্মসংস্থান হয়েছে এর ফলে? এই নিয়ে নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও ট্যুইট করেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল।

সম্প্রতি রাজ্য সরকার পরিচালিত বিজয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠানে এসে রাজ্যের শিল্পায়নে সামিল হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন বাংলার রাজ্যপাল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে রেখেই তিনি বাণিজ্য সম্মেলনকে সমর্থন জানিয়ে সেদিন তিনি বলেন, ‘আগামী বছরের বাণিজ্য সম্মেলনকে সফল করার জন্য আমার যা করার করব।’ কিন্তু তারপরেই নিজের পূর্ব অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে তিনি রাজ্যের প্রতি প্রশ্ন তোলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে।

এর জবাবে রাজ্যের বাণিজ্য সম্মেলন নিয়ে রাজ্যপালকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান আর্থিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র। রাজ্যের প্রাক্তন এই অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যপালের আচরণ অনেকটা ডক্টর জেকিল এবং মিস্টার হাইডের মত। যিনি রাতে এক ধরনের কথা বলেন এবং দিনে আরেক ধরনের কথা বলেন। অর্থাৎ দ্বৈত ব্যক্তিত্ব।’ অমিত মিত্র ট্যুইট করেন, ‘২৪ ঘণ্টাও কাটল না, জগদীপ ধনকর ট্যুইট করে বাণিজ্য সম্মেলন নিয়ে উগড়ে দিলেন বিষ। বার করে আনলেন এক বছর আগের লেখা চিঠি। যে চিঠি মুখ্যমন্ত্রী ও আমাকে লেখা হয়েছিল।’

রাজ্যপাল অমিত মিত্রকে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘গত পাঁচ দফায় যে সম্মেলন হয়েছে তাতে রাজ্যে ১২ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। কোথায় হয়েছে সেই বিনিয়োগ? আর এই বিনিয়োগের ফলে কত জনের কর্মসংস্থান হয়েছে? মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র যে চিঠি দিয়েছেন তাতে এই বিষয় গুলির উল্লেখ ছিল না। তাঁর কাছে আমার অনুরোধ, তিনি যেন এই বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *