জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ৬ এপ্রিল: বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৫ টি আসনের মধ্যে শাসক দল তৃণমূল এবং বিরোধী দল বিজেপি এবং সংযুক্ত মোর্চার ঝুলিতে কয়টি আসন যাবে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সংযুক্ত মোর্চার পক্ষ থেকে তেমন কোনও দাবি না করা হলেও বিজেপি এবং তৃণমূল দু’পক্ষই এই জেলায় ভালো ফল করার আশা করছে। দু’পক্ষেরই দাবি, তারাই বেশিরভাগ আসনে জয়লাভ করতে চলেছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ১৫ টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষের জেতা খড়গপুর শহর কেন্দ্রটি বাদ দিলে অন্য ১৪টি আসনই তৃণমূলের দখলে গিয়েছিল। কিন্তু সেই হিসেব ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে ওলট-পালট হয়ে যায়। জেলার ১৫ টি বিধানসভার মধ্যে ৮ টিতে এগিয়ে থাকে শাসকদল। ৭ টিতে এগিয়ে ছিল বিজেপি। খড়্গপুর সদরের বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হওয়ার হওয়ার পর ওই বিধানসভা কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীর কাছে বিজেপি প্রার্থী হেরে যান। ফলে, জেলার পনেরোটি আসনেই তৃণমূল আধিপত্য ফিরে পায়। সেইসঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে শাসকদলের পক্ষে ফলাফল দাঁড়ায় ৯-৬। খড়্গপুর সদর বাদে অন্য যে ৮টি বিধানসভা কেন্দ্রে শাসক দল তৃণমূল এগিয়ে ছিল সেগুলি হল- খড়্গপুর গ্রামীণ, কেশপুর, ঘাটাল, দাসপুর, চন্দ্রকোনা, শালবনী, সবং এবং পিংলা।
অন্যদিকে, খড়্গপুর সদর কেন্দ্রে উপ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর যে ৬ টি কেন্দ্রে বিজেপি এগিয়ে ছিল সেগুলি হল মেদিনীপুর, নারায়ণগড়, কেশিয়াড়ি, দাঁতন, গড়বেতা ও ডেবরা। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে এবং পরবর্তীকালে সংগঠন মজবুত করার প্রেক্ষিতে ২৭ মার্চ প্রথম দফা এবং ১ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের পর পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫ টি আসনের চুলচেরা বিশ্লেষণে বসেছে শাসক বিরোধী দু’পক্ষই।
যুব তৃণমূলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চক্রবর্তীর দাবি, “১৫ টি কেন্দ্রেই আমাদের প্রার্থীরা জয়লাভ করবেন।” শাসক দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সুজয় হাজরা অবশ্য জানিয়েছেন, “অন্তত ১২ টি আসনে আমরাই জিতছি।” তাঁর হিসেব, কেশিয়াড়ি, দাঁতন এবং ঘাটাল কেন্দ্রে বিজেপির সঙ্গে জোর লড়াই হবে। শাসকদলের আরও কয়েকজন জেলা স্তরের নেতা জানিয়েছেন, খড়্গপুর গ্রামীণ, পিংলা, গড়বেতা, নারায়ণগড় কেন্দ্রেও শাসকদল যথেষ্ট চাপে রয়েছে। খড়গপুর গ্রামীনের শাসকদলের কর্মীদের একটি অংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন সঠিক প্রার্থী না থাকায় সংখ্যালঘুদের একটি অংশ সংযুক্ত মোর্চার (সিপিআইএম) তরুণ প্রার্থী সৈয়দ সাদ্দাম আলি’কে ভোট দিয়েছেন। সিপিএমের জেলা নেতারাও সে কথা স্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, ভোটের আগের দিন নারায়ণগড়ের তৃণমূল প্রার্থী’র ‘হতাশাযুক্ত অডিও’ ভাইরাল হওয়ায় তাঁর বিপক্ষে ভোট যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিজেপির মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সোমেন তিওয়ারি বললেন, প্রথম দফার ৮টি কেন্দ্রের ৮ টিতেই বিজেপি জিতবে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তন্ময় দাস বলেন, কোনও সন্দেহ নেই দ্বিতীয় দফার ৭টি আসনের ৭টিতেই আমরা জিতছি।”
বিজেপির মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি অরূপ দাস বলেন, “এবারের ভোটে রাজ্যে পরিবর্তনের পক্ষে হাওয়া বইছে। তাই পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫ টি আসনই আমরা পেতে চলেছি। তবে, ১২ – ১৩ টিতে একশো শতাংশ জয় নিশ্চিত।”
এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমালোচকেরা বলছেন, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং উৎসবের আমেজে ভোট দেওয়া ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার বা পরিবর্তনের ছবিটিই তুলে ধরে। অনেক সময় আবার কিছু আসনে তার উল্টোটাও ঘটে যায়। তবে, বেশিরভাগ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের ভোট বা মার্জিন যে কমবে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। সেক্ষেত্রে, আসনও কমে যেতে পারে বেশ কয়েকটি। এক্ষেত্রে, বিভিন্ন বিধানসভায় আবার প্রার্থী হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিও কাজ করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।
*২০১৯ সালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিধানসভাগুলিতে কোন দল কত ভোটে এগিয়ে ছিল দেখে নেওয়া যাক-
মেদিনীপুর (বিজেপি)- প্রায় ১৭ হাজার।
নারায়ণগড় (বিজেপি)- প্রায় ৯ হাজার।
দাঁতন (বিজেপি)- প্রায় ৭০০০।
কেশিয়াড়ি (বিজেপি)- প্রায় ১১০০০।
ডেবরা (বিজেপি)- প্রায় ৪০০০।
গড়বেতা (বিজেপি)- প্রায় ৭০০০।
খড়্গপুর গ্রামীণ (তৃণমূল)- প্রায় ৯০০০।
কেশপুর (তৃণমূল)- প্রায় ৯২,০০০।
ঘাটাল (তৃণমূল)- প্রায় ৬,০০০।
দাসপুর- (তৃণমূল)- প্রায় ১০,০০০।
চন্দ্রকোনা (তৃণমূল)- প্রায় ৩,০০০।
শালবনী (তৃণমূল)- প্রায় ৯,০০০।
সবং (তৃণমূল)- প্রায় ৬,০০০।
পিংলা (তৃণমূল)- প্রায় ১৭০০।
অপরদিকে, খড়্গপুর সদরে লোকসভার নিরীখে বিজেপি এগিয়ে ছিল, ৪৫,০০০ ভোটে। উপনির্বাচনে তৃণমূল জেতে ২০,০০০ এর বেশি ভোটে।

