বাঁকুড়ায় রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় ও রামকিঙ্কর বেইজ এর বাড়ি পরিদর্শনে হেরিটেজ কমিশন

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৬ জুলাই: বাঁকুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, জেলার দুই কৃতী সন্তান বিশ্ববরেণ্য সাংবাদিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় ও বিশ্ব বিখ্যাত ভাস্কর রামকিঙ্কর বেইজ এর বসত বাড়ি সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত হোক, ঘোষিত হোক হেরিটেজ। দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণে নড়েচড়ে বসেছে হেরিটেজ কমিশন। এই ব্যপারে উদ্যেগী ভূমিকা নিয়েছেন অভিনেত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদিক সায়ন্তিকা বন্দোপাধ্যায়।

আজ সকালে রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের দুই কর্তা বসুদেব মালিক ও অরিন্দম রায়, পৌরপ্রধান অলকাসেন মজুমদারকে সঙ্গে নিয়ে রামানন্দবাবুর পাঠকপাড়া স্হিত বসত বাড়ি ও দোলতলায় রামকিঙ্কর বাবুর বাড়ি পরিদর্শন করেন। তাদের সাথে ছিলেন সায়ন্তিকা দেবীও। বসুদেববাবুরা জানান, তারা বাড়ি দুটি পরিদর্শন সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেবেন।

পৌরপ্রধান অলকাসেন মজুমদার বলেন, হেরিটেজ কমিশনের দুই পদস্হ ব্যক্তি পাঠকপাড়ায় রামানন্দ বাবুর বাড়ি ও দোলতলায় বামকিঙ্কর বেইজের বাড়ি পরিদর্শন করে গেলেন।এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ হেরিটেজ কমিশন নেবে। বিশ্ববরেণ্য সাংবাদিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের বসত বাড়ি হেরিটেজ স্বীকৃতির পাশাপাশি সংগ্ৰহ শালা নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে বাঁকুড়া ডিস্ট্রিক্ট প্রেস ক্লাব।

ক্লাবের সম্পাদক সন্তোষ ভট্টাচার্য এ বিষয়ে বলেন, রামানন্দ বাবুর বাড়িটির সংস্কার ও সংরক্ষণ জরুরি। কেননা দীর্ঘদিনের পুরাতন এই বাড়ি জীর্ণ হয়ে পড়েছে।কিন্তু সংরক্ষণ বা সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেই। শুধুমাত্র হেরিটেজ ঘোষিত হলেই হবে না, তার ব্যবহৃত জিনিষ, প্রবাসী, দাসী মডার্ন রিভিউ প্রভৃতি পত্রিকায় সংরক্ষিত করা হলে তা গবেষকদের সাহায্য করবে তেমনি দর্শনীয় স্হানও হবে। উল্লেখ থাকে যে পাঠকপাড়ায় বসতবাড়ি ছাড়াও শহরের স্কুল ডাঙ্গায় বর্তমান গান্ধি বিচার পরিষদের বাড়ি সংলগ্ন একটি বাড়িতে রামানন্দ বাবু তার পত্রিকা সম্পাদনার কাজ
করতেন। সেই বাড়ি এখন ভেঙ্গে ফেলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ২৯ মে রামানন্দের জন্মদিন সাংবাদিক দিবস হিসাবে প্রেস ক্লাব পালন করে আসছে, ঐ দিনটি রামানন্দ দিবস হিসেবে রাজ্য সরকারের স্বীকৃতির দাবি জানান তিনি। অপরদিকে রামানন্দ বাবুর বসতবাড়িতে ও রামকিঙ্করের বসতবাড়িতে তার পরিবারের সদস্যরা বসবাস করছেন। বাড়ি দুটি হেরিটেজ স্বীকৃত হলে পরিবারের সদস্যদের কোথায় ঠাঁই হবে সে প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *