জোটেনি আবাস যোজনার বাড়ি, এক’শ দিনের কাজ,  কাঁকসায় বিডিও’র কাছে আবেদন অসহায় মহিলাদের 

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৫ জুলাই: লকডাউনে কাজ নেই। জোটেনি এক’শ দিনের কাজ। ভেঙ্গে পড়ছে বাড়ির দেওয়াল। চরম সঙ্কটে দিন কাটছে।  এমনকি খোঁজও নেয়নি কেউ। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলল কাঁকসার কেটেন গ্রামের প্রায় ৩৫ টি অসহায় পরিবারের মহিলারা। সোমবার এক’শ দিনের কাজ ও সরকারি বাড়ির দাবিতে কাঁকসা বিডিওর কাছে গণআবেদন জানাল ওইসব অসহায় মহিলারা। 

    উল্লেখ্য, গত কয়েকবছর ধরে রাজ্যে বেশ কয়েকটি ঘুর্নি ঝড় হয়েছে। আয়লা থেকে ফনী, বুলবুল সম্প্রতিকালে যস’এর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। বিশেষ করে মাটির বাড়ির। কাঁকসার আমলাজোড়া পঞ্চায়েতের কেটেন গ্রামের ৩৫টি অসহায় পরিবার সরকারি বাড়ির দাবিতে বিডিও’র কাছে আবেদন জানালেন। আবেদন জানাতে গিয়ে সরকারি সাহায্যের বঞ্চনার ক্ষোভ উগরে দিলেন।

ক্ষুব্ধ মানা বাউরী, আরতি বাউরী, অপর্না বাউরী, রূপা বাউরী’রা জানান, “গরিব অসহায় পরিবার। দিনমজুরের কাজ করে সংসার চলে। সংসারে চরম অনটন। মাটির ছিটে বেড়ার বাড়ি। বৃষ্টিতে প্রতিবছরই দেওয়াল ভেঙ্গে পড়ে যায়। তাই বর্ষা আসলেই আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। পঞ্চায়েতে বহুবার সরকারি বাড়ির জন্য বলেছি। কিন্তু জোটেনি।” গ্রামবাসীরা আরও জানান, “এক’শ দিনের কাজও গত ৫-৬ বছর ধরে জোটেনি। গত একবছর ধরে করোনা আবহে সংসারে আরও অনটন নেমে এসেছে।  তবুও সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত। এমনকি লকডাউনে কিভাবে দিন কাটছে। কেউ খোঁজ নেয়নি। তাই এক’শ দিনের কাজ ও আবাস যোজনার বাড়ীর দাবি জানাতে সকলে এসেছি।”

আর প্রশ্ন এখানেই। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সরকারি সাহায্যের আবেদনের জন্য দুয়ারে সরকার থেকে নিশি যাপন, পাড়ায় পাড়ায় সরকার একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে রাজ্য সরকার। তারপরও কাঁকসার কেটেন গ্রামের অসহায় ওইসব পরিবারের এক’শ দিনের কাজ ও আবাস যোজনার বাড়ি না মেলায় উঠছে প্রশ্ন। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘড়ুই জানান, “রাজ্যের তৃণমূল সরকারের  দুয়ারে সরকার কর্মসূচি যে ভাঁওতা ছিল, এটাই তার প্রমাণ। গ্রামবাসীরা সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত। চরম অসহায় অনটনে দিন কাটছে পরিবারগুলোর। তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিধায়সভায় ওইসব গ্রামবাসীদের দুর্দশার কথা তুলব।”

আমলাজোড়া পঞ্চায়েত সুত্রে জানা গেছে, গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ২৬২ জন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি পেয়েছিল। ২০২০-২১ অর্থ বছরে ২০১ জনের নামে বাড়ী এসেছে। আমলাজোড়া পঞ্চায়েত প্রধান চয়নিকা পাল বলেন, “পুরোনো সার্ভের তালিকা অনুযায়ী আবাস যোজনার বাড়ি আসছে। নতুন করে সার্ভে হলে আবারও ওইসব পরিবারের নাম নথীভুক্ত হবে। এক’শ দিনের কাজ শুরু হচ্ছে। সকলে কাজ পাবে।”

তৃণমূলের কাঁকসা ব্লক সভাপতি দেবদাস বক্সী জানান, “এক’শ দিনের কাজ নিয়ে আমলাজোড়া পঞ্চায়েতে কিছু জটিলতা ছিল। সেসব মিটে গেছে। নতুন করে কাজ শুরু হলেই কাজ পাবে এবং আবাস যোজনার বাড়ির সার্ভে তালিকা তৈরী হয়েছে বাম জামনায়। সেই তালিকা অনুযায়ী বাড়ি পাচ্ছে। নতুন করে সার্ভে হলে ওইসব পরিবার বাড়ি পাবে।”  কাঁকসা বিডিও সুদীপ্ত ভট্টাচার্য জানান, “আবাস যোজনার বাড়ির সার্ভে লিষ্ট অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে। তবুও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *