অসহায় হাঁসখালির বাঁশিওয়ালা, বিক্রি নেই, এদিকে বাড়ি থেকে উৎখাতের চক্রান্ত

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদীয়া, ১১ সেপ্টেম্বর:
নদীয়ার হাঁসখালীর বাঁশিওয়ালা নামে খ্যাত বংশীধারী নারদ বিশ্বাস। চিত্রশালি এলাকার হাজারী নগরে বসবাস করেন দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে। গরিব অসহায় পরিবারের একমাত্র সন্তান নারদবাবু। ছোট বেলায় বাবা মারা যাওয়ায় মাকে নিয়ে থাকেন তিনি। সংসার চালাতে বাবার পথ অনুসরণ করেন। কারন নারদবাবুর বাবাও ভালো বাঁশি বাজাতেন , তৈরি ও বিক্রি করতেন। বাবার কাছে অনেকেই আসতেন বাঁশি বাজানো শিখতে। আর প্রতিদিন নানা ধরনের বাঁশি বানিয়ে অর্থ উপার্জন করতেন।

বাবার মৃত্যুর পর নারদ বাবু সেই পথ অনুসরণ করেন। এই বাঁশির জন্য যে বাঁশ লাগে তা পশ্চিমবঙ্গে হয় না। ত্রিপুরার পাহাড়ি এলাকা থেকে সেই বাঁশ আনেন। অল্প দিনের মধ্যেই নারদবাবুর বাঁশির সুরে মুগ্ধ হয়ে অনেকেই শিখতে শুরু করে। নারদ বাবুর বাঁশির সুখ্যাতি জেলা থেকে রাজ্য এমনকি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। নিজের বলতে পিডব্লিউডির রাস্তার ধারে শিল্পী নারদ বিশ্বাসের বসবাস। বাড়িটি ভাঙ্গাচোরা টালির বাড়ি। তিনি ত্রিপুরা থেকে বাঁশ এনে বাঁশি তৈরি করে বিক্রয় করেন কলকাতায়। কিন্তু দীর্ঘ লকডাউনের ফলে কলকাতায় যেতে পারছেন না বাঁশি বিক্রি করতে। সেজন্য তাঁর বাড়িতে প্রচুর বাঁশি জমে গেছে।

এদিকে বৃদ্ধা মা আশির ঊর্ধ্বে বয়স, তাঁকে নিয়ে খুবই চিন্তিত নারদবাবু। বয়সের ভারে তিনিও ক্লান্ত। সরকারি ভাবে ১০০০ টাকা করে ভাতা পান তিনি। অভাবের সংসার, পেটতো মানে না। তাই শরীর সায় না দিলেও এখন বাঁশি নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু ক্রেতার অভাবে বাঁশি বিক্রি হচ্ছে না। ফলে অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বাঁশিওয়ালা নারদ বিশ্বাস। তাঁর এই অসহায়তার সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ বাড়ি থেকে তুলে দেবার জন্য ভয়ও দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ নারদবাবুর। এই ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধ বাঁশিওয়ালা।

এত সত্বেও নারদবাবু প্রশাসনকে জানাতে ভয় পাচ্ছেন।কারন যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাবেন তারা যে ধনী।সেই আতঙ্ক কুরে কুরে খাচ্ছে নারদ বাবুকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *