ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর জন্য উপহার, হাড়িভাঙা আম পাঠালেন হাসিনা

সুশান্ত ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগণা, ৪ জুলাই: দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে বিশেষ উপহার পাঠালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য উপহার হিসেবে ২৬০০ কেজি হাড়িভাঙা আম পাঠালেন শেখ হাসিনা।

রবিবার দুপুরে বনগাঁ পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়েই দু-দেশের কর্তাদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢোকে সেই দেশের হাড়িভাঙা আম। ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর জন্য মোট ২৬০ কার্টুন অর্থাৎ ২৬০০ কেজি হাড়িভাঙা আম ভারতীয় আধিকারিকদের হাতে তুলে দেন বাংলাদেশের আধিকারিকরা। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই প্রয়াস বলে জানান বেনাপোলে কর্মরত বাংলাদেশের ডেপুটি কমিশনার অনুপম চাকমা। তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সবসময়ই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক উন্নয়ন করার এটা একটা পথ। বন্ধুত্বপূর্ণ শুভেচ্ছা স্মারক হিসাবেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর জন্য এই আম পাঠিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’ বাংলাদেশের একেবারে দেশজ হাড়িভাঙা আম পাঠানো হল বলে তিনি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন যেমন ঘটবে, তেমনই বাণিজ্যিক প্রসারও ঘটবে বলে আশাবাদী পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী। এদিন বাংলাদেশ থেকে ভারতে আম উপহারের সময় বনগাঁ পেট্রাপোল সীমান্তে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আম উপহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বরাবরই সুসম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি করোনার নানারকম চিকিৎসা সামগ্রী দিয়েও ভারতকে সাহায্য করেছিল বাংলাদেশ। এবার ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক অটুট রাখতেই বাংলাদেশের তরফ থেকে আম পাঠানো হল। আগামীতে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। পাশাপাশি দুই দেশের আধিকারিকদের মতো আমাদের বাণিজ্যেরও আরও অগ্রগতি ঘটবে বলে আশা করছি।’

এদিন বনগাঁ সীমান্তে বাংলাদেশের তরফে আম দেওয়ার সময় পেট্রাপোল কাস্টমসের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার, কার্গো ম্যানেজার সহ অন্যান্য আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *