আমাদের ভারত, ৩ ফেব্রুয়ারি:সাম্প্রতিকালে পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। প্রশ্ন তুলেছেন কেন বারবার পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে? কেন্দ্র পাল্টা জানিয়েছে পেট্রোপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পেট্রোল-ডিজেলের দামের বিকেন্দ্রীকরণ ,যা ইউপিএ আমলেই হয়েছে। এবার সংসদে একেবারে হিসেবে দিয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী দাবি করলেন এনডিএ বা মোদী সরকারের আমলে যে মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে সেটা ইউপিএ আমলের তুলনায় অনেকটাই কম। তার তথ্য অনুযায়ী গত ৭ বছরে মাত্র ৩০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দাবি করেন, মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে এখন আর নেই। কংগ্রেসের সংসদ বেনি বাহানান বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেট্রোপণ্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন পেট্রোল-ডিজেলের কেন এত মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে? নতুন করতে সরকার কি কি পদক্ষেপ করছে মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে?
তার উত্তরে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী ব্যাখ্যা দেন, মোদী সরকারের আমলে যে মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে তবে বিগত সরকারের তুলনায় অনেকটাই কম। তিনি উল্লেখ করেন ২০১০ সালের জুন মাসে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পেট্রোল-ডিজেলের দাম নির্ধারণ হয় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর ভিত্তি করে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যেভাবে বাড়ে সেভাবে মূল্যবৃদ্ধি হয় ভারতে। শুধুমাত্র শুল্ক ঠিক করতে পারে কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ইতিহাস দেখলে বোঝা যাবে বিগত সরকারের আমলে মূল্যবৃদ্ধি অনেকটাই বেশি হয়েছে। তার দেওয়া হিসেব অনুযায়ী ১৯৮৬-১৯৯৩ পর্যন্ত ১২৫% মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। ২০০০-২০০৭ পর্যন্ত ৭০% শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। ২০০৭-২০১৪ পর্যন্ত ৬০% মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। আর সেখানে ২০১৪-২০২১ পর্যন্ত অর্থাৎ মোদীর আমলে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ৩০%।
তার দাবির ২০১০ এর আগে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ছিল মূল্যবৃদ্ধির উপর। তাসত্ত্বেও দাম বেড়েছিল। অথচ মোদী সরকারের হাতে দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা না থাকলেও সেভাবে মূল্যবৃদ্ধি হয়নি। প্রসঙ্গত কিছুদিন আগেই পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমাতে শুল্ক কমিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

