জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৫ জুন: বিয়ের দাবি নিয়ে দাসপুরের প্রেমিকের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার প্রেমিকা।
আড়াই বছরের প্রেম থেকে মুখ ফিরিয়ে এখন কোনো যোগাযোগ রাখতে চাইছে না প্রেমিক, মোবাইলও ধরছে না। তাই বাধ্য হয়ে ১০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে পৌঁছে যায় প্রেমিকা। কিন্তু প্রেমিকের বাড়ি থেকে সাড়ার বদলে তিরস্কার জোটায় বাধ্য হয়ে প্রেমিকের মামার পাড়া বালিপোতায় ধর্ণায় বসে প্রেমিকা। দিন পেরিয়ে রাত হয়ে যাওয়ায় দাসপুর থানার পুলিশ প্রেমিকাকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায়। এরপরই শুরু হয় প্রেমিকের খোঁজ। শনিবার দিনভর ঘটনাটি ঘটেছে দাসপুরের বালিপোতা বাজারে। শেষ পর্যন্ত প্রেমিকের খোঁজ পেয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জানাগেছে, কলকাতার একটি সংস্থার অধীনে কাজ করার সময় দু’জনের আলাপ হয়। ২০১৯ সাল থেকেই দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমিক দাসপুর থানার পোস্তংকা গ্রামের রাজেশ দাস। অন্যদিকে প্রেমিকা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়া থানার লক্ষ্মীপুরের নুরজাহান খাতুন। ভিন্ন ধর্মের মেয়ে হওয়ায় প্রেম না আটকালেও সমস্যা বেধেছে বিয়েতে। ভিন ধর্মী মেয়েকে মানতে নারাজ রাজেশের পরিবার এবং সমাজ। সেই কারণেই প্রেমিকার কাছ থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসতেই পালিয়ে বেড়ায় প্রেমিক রাজেশ। নুরজাহান জানিয়েছে, তাঁদের এই সম্পর্কের কথা রাজেশের পরিবার জানত। একাধিকবার সে রাজেশের বাড়িতে এসেছে। কিন্তু এখন বিয়ের কথা উঠতেই পরিবার ও সমাজের চাপে তাকে মেনে নেওয়া তো দূরের কথা, রাজেশ দেখা পর্যন্ত করছে না। দিনভর আত্মগোপন করে থাকলেও সংবাদমাধ্যম মোবাইলে যোগাযোগ করলে রাজেশ তাঁদের মধ্যে প্রেম ভালোবাসার কথা স্বীকার করে নিয়ে জানায়, নুরজাহানকে সে বিয়ে করতে পারবে না, একথা আগেই তাকে বলা হয়েছিল।
যদিও নুরজাহানের বক্তব্য, ভবিষ্যতে সংসার পাতার লক্ষ্যেই তাঁরা প্রেম করেছিল এবং সেই কারণেই রাজেশের সাথে সে ঘনিষ্ঠ মূহূর্ত কাটিয়েছে। যার একাধিক ছবি মোবাইলে ধরা আছে। আর রাজেশকে পেতেই সে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজেশকে আটক করেছে পুলিশ। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।”

