আমাদের ভারত, ১৪ মে: বাংলায় ভোট-পরবর্তী হিংসা জেরে কোচবিহারের বহু মানুষ অসমে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে উদ্যোগী রাজ্যপাল তাদের সঙ্গে দেখা করলেন। জগদীপ ধনখড় অসমে আক্রান্তদের সাথে শিবিরে গিয়ে কথা বলেন। রাজ্যপালকে কাছে পেয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আক্রান্তদের পরিবার। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে অসমে গিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন রাজ্যপাল।
অসমের আগমনী রাঙ্গাবালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিবির ঘুরে দেখেন রাজ্যপাল। সেই শিবিরে অসম পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরাও ছিলেন। রাজ্যপালের সঙ্গে ছিলেন কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামানিক।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই শিবিরে আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যপাল। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন কোচবিহারের বক্সীরহাট, তুফানগঞ্জ, ঝাউকুঠি এলাকার আক্রান্ত বিজেপি কর্মীরা। রাজ্যপাল তাদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত করেছেন বলে জানা গেছে।
বাংলার গন্ডির বাইরে বেরিয়ে অসমে গিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জগদীপ ধনখড়। তার অভিযোগ, বাংলা থেকে বহু মানুষ হিংসার কবলে পড়ে অসমে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। পছন্দমত দলকে ভোট দেওয়ার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বিচারে আক্রান্ত হতে হচ্ছে বিরোধীদের। অথচ পুলিশ প্রশাসন ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে রয়েছে। বেলাগাম অরাজকতা চলছে রাজ্যজুড়ে। রাজ্যের পরিস্থিতি ভয়াবহ আর সহ্য করা যাচ্ছে না।
ধনখড় আরও বলেন, “২মের পর রাজ্যের পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠেছে। ঘর ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ। কারণ একটাই রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার অভাব। ভেবেছিলাম সরকারের বোধোদয় হবে। কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি। রাজ্যের প্রথম সেবক হিসেবে আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে অশান্ত এলাকায় যাওয়ার। আমার প্রথম কাজ সংবিধানকে রক্ষা করা। তারপরেই বাংলার মানুষকে হিংসা থেকে বাঁচানো।”
বৃহস্পতিবারই কোচবিহার সফরে এসেছিলেন রাজ্যপাল। কোচবিহারের, মাথাভাঙ্গা, শীতলকুচি, দিনহাটা সন্ত্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলেন জগদীপ ধনখড়। রাজ্যপাল রাতে ছিলেন সার্কিট হাউসে। এরপর সকালবেলায় সড়কপথে অসমের ধুবড়ি জেলার আগমনীতে যান তিনি আক্রান্তদের সাথে দেখা করতে।

