“ধনখড় দিল্লির শাহেনশাহদের এজেন্ট”, রাজ্যপালের অপসারণের দাবি জানালেন তৃণমূল সাংসদ

আমাদের ভারত, ১৪ মে: ফের রাজ্য- রাজ্যপাল
সঙ্ঘাত চরমে উঠল। আবারো রাজ্যপালের পদ থেকে জগদীপ ধনখড়ের অপসারণ চাইল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসায় ইন্ধন যোগাচ্ছে জগদীপ ধনখড়। তিনি দিল্লির শাহেনশাহদের এজেন্ট। তিনি আর রাজ্যপাল পদে থাকার যোগ্য নন।

গত বছরের শেষের দিকেও রাজ্যপালকে সরানোর দাবি জানিয়েছিল রাজ্যের শাসক দল। রাজ্যপাল হয়ে আসার পর থেকেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে বার বার সংঘাতে জড়িয়েছেন ধনখড়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর সে সংঘাত আরো বেড়েছে বই কমেনি। শপথের দিন থেকেই ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন রাজ্যপাল। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার অবনমন নিয়ে রাজ্যের শাসককে দায়ী করেছেন রাজ্যপাল।
তবে শুক্রবার রাজ্য ও রাজ্যপালের এই দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পেল, তখন বাংলার গন্ডির বাইরে বেরিয়ে অসমে গিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জগদীপ ধনখড়। তার অভিযোগ, বাংলা থেকে বহু মানুষ হিংসার কবলে পড়ে অসমে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। পছন্দমত দলকে ভোট দেওয়ার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বিচারে আক্রান্ত হতে হচ্ছে বিরোধীদের। অথচ পুলিশ প্রশাসন ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে রয়েছে। বেলাগাম অরাজকতা চলছে রাজ্যজুড়ে। রাজ্যের পরিস্থিতি ভয়াবহ আর সহ্য করা যাচ্ছে না।
ধনখড় আরও বলেন, “২মের পর রাজ্যের পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠেছে। ঘর ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ। কারণ একটাই রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার অভাব। ভেবেছিলাম সরকারের বোধোদয় হবে। কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি। রাজিব প্রথম সেবক হিসেবে আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে অশান্ত এলাকায় যাওয়ার। আমার প্রথম কাজ সংবিধানকে রক্ষা করা। তারপরেই বাংলার মানুষকে হিংসা থেকে বাঁচানো।”

অন্যদিকে ধনখড়ের শরণার্থী শিবিরের সফর নিয়ে সরব হয়েছে রাজ্যের শাসক দল। তাদের অভিযোগ রাজ্যের শাসক দল বেছে বেছে আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন । তৃণমূল কর্মীরা আক্রান্ত হলেও তাদেরকে নিয়ে কোন মাথাব্যাথা নেই রাজ্যপালের। তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় একেবারে সরাসরি ধনখড়ের অপসারণ চেয়েছেন। তার কথা, ” দিল্লির শাহেনশাহদের এজেন্ট ধনখড়। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে হিংসায় ইন্ধোন দিচ্ছেন তিনি। বিজেপি নেতার মত কাজ করছেন তিনি। তার রাজ্যপালের পদে থাকার যোগ্যতা নেই। দ্রুত তাকে অপসারণ করা উচিত।

এর আগে গত বছর ডিসেম্বর মাসেও রাজ্যপালের অপসারণের দাবিতে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছিল তৃণমূল। সেই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *