আইন ভেঙেছি প্রমাণ করতে পারলে ইস্তফা দেবো, মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ রাজ্যপালের

আমাদের ভারত, ২ ফেব্রুয়ারি:মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় জবাব দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্যপালকে নিশানা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জবাবে কড়া বক্তব্য রাখলেন রাজ্যপাল। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে পাল্টা চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দিলেন জগদীপ ধনখড়। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছেন তাতে আমি হতবাক। ম্যাডাম এটা কোন ইগোর লড়াই নয়।” পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে রাজ্যপাল বলে তিনি আইন ভেঙেছেন তা প্রমাণ করতে পারলে তিনি ইস্তফা দেবেন।

রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বলেন তাকে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা থেকে বিরত করা যাবে না। তার কথায়, “আমি সংবিধানের নামে শপথ নিয়েছি আমার দায়িত্ব রাজ্যে আইনের শাসন সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে কিনা তা দেখা”। কোন প্রমাণ ছাড়াই রাজ্যপাল রাজভবনের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী ভয়ঙ্কর অভিযোগ এনেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, আইন ভেঙে ভেঙেছেন প্রমাণ করতে পারলে ইস্তফা দেবেন তিনি।

রাজভবনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল বলেন, “আমার টেবিলে কোনো ফাইল পড়ে নেই। যদি কোনো কাজ পরেও থাকে তার দায় রাজ্য প্রশাসনের। আমি অন্তত ৯০০টি টুইট করেছি। জবাব আসেনি। আমার বিরুদ্ধে খারাপ অভিযোগ আনা হচ্ছে। আমি কোন খারাপ ভাষা প্রয়োগ করি না। রাজভবনে কোন পাঁচতারা হোটেল থেকে খাবার আসে না।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে সরাসরি রাজ্যপাল বলেন, “রাজভবনের বিরুদ্ধে ফোনে আড়িপাতার অভিযোগ অভিযোগ আনছেন। ম্যাডাম চিফ মিনিস্টার এটা কোন ইগোর লড়াই নয়।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “ক্ষমতার বলে কোন মন্তব্য করবেন না। রাজ্যের নয় কোটি মানুষের জন্য কাজ করুন। দেখবেন রাজ্যপালকে আপনি সর্বদায় পাশে পাচ্ছেন”।

আবারও তিনি আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, রাজ্যে আইনের শাসন নেই শাসকের আইন আছে।প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রসঙ্গ টেনে আনেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে একজন সাংবিধানিক প্রধানকে অপমান করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী তার প্রটোকল ভেঙেছেন। কোন রাজ্যে এমন কোন ঘটনা কখনো ঘটেনি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে আজ রাজ্যপালকে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেছেন, “২৬ জানুয়ারি একটা ঘোড়ার পালকে দেখেছিলাম। সারাক্ষণ আমায় গালাগালি করে যাচ্ছিল। ঘরে বসে চোখে দূরবীন লাগিয়ে খুন খারাপি হিংসা দেখা যাচ্ছে বাংলায়। আবার আমাকেই টুইট করছে। দিল্লি উত্তরপ্রদেশে কি হচ্ছে দেখতে পাচ্ছে না? গুজরাটে কি হচ্ছে সেদিকে নজর দিচ্ছে না”।

গত সোমবারই টুইটার থেকে রাজ্যপালকে ব্লক করার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছিলেন “আমি অত্যন্ত বিরক্ত। বাধ্য হয়ে ওকে ব্লক করেছি। উনি এমন এমন কথা বলছেন যেনো উনি রাজ্যের সুপার পাহারাদার আর আমরা বন্ডেড লেবার”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *