কুমারেশ রায়, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ৬ নভেম্বর: আজ আনন্দে ওদের চোখের কোণে জল। ছোটবেলাতে তারা হারিয়েছে পরিবার, কেউ বা পাড়ার কাউকে বিশ্বাস করে অন্ধকারে দিন যাপন করছেন। তাই ভুলতে বসেছিলেন ভাই ফোঁটা। আর সেই পুরনো স্মৃতি আবার ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা ওরা।
ভাইফোঁটার আগের দিন শুক্রবার, পুলিশ কর্মীরা রেড লাইট এলাকা বা যৌনপল্লীতে গিয়ে বলে আসেন, ভাইফোঁটার দিনে ফোঁটা নিতে আসবেন মহকুমা শাসক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট জনেরা। পাশাপাশি পুলিশ কর্মীরাও আসবেন ভাইফোঁটা নিতে।

শনিবার ভাই ফোঁটার দিন সমস্ত রীতিনীতি মেনে ওই মহিলারা “ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা” এই মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে মহকুমাশাসক সহ অন্যান্যদের কপালে তাদের মঙ্গলকামনায় ফোঁটা দিলেন। তার পর ধান দুর্বা মাথায় ছুঁইয়ে ভাইয়েদের সুস্থ জীবন এবং দীর্ঘায়ু কামনা করলেন। ভাইয়েরাও দিদিদের জন্য এনেছিলেন উপহার, শাড়ি থেকে শুরু করে খাবার থালা।
আপ্লুত ওই মহিলারা বললেন, এই দিন যেন বারবার ফিরে আসে। এর আগে এমন দিন তাদের জীবনে কোনওদিন আসেনি।
মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস বলেন, তিনি আজ প্রথম ফোঁটা নিলেন ওই দুর্বার পল্লীর মহিলাদের কাছে। মহকুমা শাসক আরও বলেন, ওই মহিলাদের যে কোনও প্রশাসনিক সাহায্য তিনি করবেন এবং সমাজের মূলস্রোতে ফেরানোর চেষ্টা করবেন।

ঘাটালের দুর্বার পল্লীতে এই ধরনের আয়োজন এই প্রথম। এই পবিত্র অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রেডক্রস ঘাটাল শাখা এবং গান্ধী মিশন। এই পেশার মহিলারা যে সমাজের পতিতা নয় তা প্রতিষ্ঠিত হল আজ, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। ঠিক যেভাবে দুর্গাপুজোর রীতিনীতিতে এই পতিতা পল্লী থেকে মাটি নেওয়ার নিয়ম পালিত হয়। ঘাটাল মহকুমা শাসক ছাড়াও ছিলেন ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মাজি, কর্মাধ্যক্ষ বিকাশ কর, ঘাটাল থানার ওসি দেবাংশু ভৌমিক, সমাজসেবী নারায়ণ ভাই সহ অন্যান্যরা।

